
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ)।
শুক্রবার (১৯ জুন) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, চুক্তির আওতাধীন হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোকে নির্ধারিত দাফতরিক চ্যানেলের মাধ্যমে পিজিএসএর কাছে ট্রানজিটের আবেদন জমা দিতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরই তাদের প্রণালি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়া হবে.
পিজিএসএ জানিয়েছে, তাদের সরকারি ওয়েবসাইট ও ই-মেইল ঠিকানাই ট্রানজিট আবেদন প্রক্রিয়ার একমাত্র অনুমোদিত মাধ্যম। আবেদনকারীদের জাহাজের জন্য বৈধ ও কার্যকর যোগাযোগের তথ্যও সরবরাহ করতে হবে।
এছাড়া প্রবেশ বা প্রস্থান পয়েন্টে বিলম্ব এঢ়াতে জাহাজ মালিকদের হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছানোর কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা আগে পূর্ণাঙ্গ ট্রানজিট আবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবেশগত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি এবং সংশ্লিষ্ট ইরানি বীমা বাবদ চার্জ ৬০ দিনের জন্য মওকুফ থাকবে। এই সময়ের ব্যয় বহন করবে ইরান সরকার।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রণালির কিছু এলাকায় মাইনের ঝুঁকি এবং নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কারণে জাহাজগুলোকে আগে থেকেই তাদের নির্ধারিত রুট ও যাতায়াতের সময়সূচি সমন্বয় করতে হবে। নির্দেশনা না মানলে এর দায় সম্পূর্ণভাবে জাহাজ মালিকদের ওপর বর্তাবে বলেও পিজিএসএ সতর্ক করেছে।
গত বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান ৬০ দিনব্যাপী আলোচনা চালাবে। প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান অবিলম্বে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করবে, আর যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি