
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং প্রিয় শিষ্য নিশ্চিতভাবেই লিওনেল মেসি। এমন একজন মহাতারকাকে কোচিং করাতে পেরে স্কালোনি নিজেও গর্বিত, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনেকবারই তিনি এমন কথা বলেছেন। তবে প্রিয় তারকার সঙ্গে এবার বিচ্ছেদটাও হয়ে গেল। সম্পর্কের নয়, মাঠের আর অনুশীলনের। আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটা খেলে ফেললেন মেসি।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ হলো লিওনেল মেসির প্রায় দুই যুদের যাত্রা। এই ফুটবল জাদুকরের জাদুতে ভর করেই আর্জেন্টিনাকে অধরা শিরোপা এনে দিয়েছেন স্কালোনি। নিজের সেরা অস্ত্রকে বিদায় জানিয়ে এখন আর্জেন্টিনার ডাগউটে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি ভাবছেন স্কালোনি? আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তার একটি ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে স্কালোনি বলেন, ‘সবকিছু যদি ঠিকঠাক থাকে, তবে আমি দলের কোচিং পেশা চালিয়ে যাব। লিও আমাদের জন্য যে অমর উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছে, সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি এই স্মৃতিগুলোই সঙ্গে করে নিয়ে যাব। সবুজ ঘাসের মাঠে তার মতো জাদুকরি প্রতিভা আর কখনো দ্বিতীয়টি আসবে না। তার এই অবদানের প্রতি আমরা চিরকাল কৃতজ্ঞ হয়ে থাকব।’
বর্তমান চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় দলের সঙ্গে কোচ লিওনেল স্কালোনির চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে আগামী ডিসেম্বরেই। তবে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাকে আরও একটি পূর্ণ বিশ্বকাপ চক্রের জন্য দলের প্রধান কোচ হিসেবে ধরে রাখতে প্রবল আগ্রহী। যদিও নতুন করে চুক্তি নবায়নের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমার নিজের ভবিষ্যৎ বা চুক্তি নিয়ে এই মুহূর্তে নতুন কোনো আপডেট বা খবর নেই।’
এদিকে মাঠে মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার সামনে যে বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং সময় অপেক্ষা করছে, সে কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন স্কালোনি। বিদায়ী ভাষণে মেসি নিজেও সামনে কঠিন দিন আসার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সেই কথার সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করে কোচ জানালেন, তাদের এখন নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রেখেই ভবিষ্যতের কঠিন পথ খুঁজে নিতে হবে।
স্কালোনি বলেন, ‘আগামী দিনগুলো আমাদের জন্য বেশ কঠিন হতে চলেছে। সে নিজেও ঠিক এই কথাই বলেছে। গত কয়েক বছরে আমরা বিশ্ব ফুটবলে যা অর্জন করেছি এবং যেভাবে সাফল্য পেয়েছি, তা মোটেও সাধারণ কোনো ব্যাপার ছিল না। সামনে নিঃসন্দেহে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে আমরা যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের দলে নতুন ও তরুণ উদীয়মান ফুটবলাররা আসছে, আমার বিশ্বাস তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের পথ দেখাবে।’
মেসির সঙ্গে কাটানো সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আপনার ডাগআউটে বা দলের অন্দরে তার মতো একজন মহাতারকাকে পাওয়ার অনুভূতির সঙ্গে পৃথিবীর কোনো কিছুরই তুলনা চলে না। সাধারণ মানুষকে এটা বোঝানো সত্যিই খুব কঠিন। কারণ এটি শুধু ভাষায় প্রকাশের নয়, বরং গভীরভাবে অনুভব করার বিষয়। এটা পুরোপুরি তুলনাহীন।’
‘আমরা যতই দল পুনর্গঠন করার চেষ্টা করি না কেন, নতুন যারা আসছে তাদের নিয়ে দারুণ ও শক্তিশালী একটি স্কোয়াড আমরা হয়তো গড়ে তুলতে পারব। কিন্তু অন্য কারও মধ্যে আমি কখনো মেসির সেই বিশেষ আভা বা দীপ্তি দেখতে পাব না।’- যোগ করেন স্কালোনি।
মেসি মাঠে যে বিশাল প্রভাব ও মানসিক স্বস্তি তৈরি করতেন, তা আর কখনোই ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন স্কালোনি। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘সে মাঠে থাকলে প্রতিপক্ষের মনে যে ত্রাস ও নিজস্বতা তৈরি হতো, তা আর কখনো থাকবে না। আমাদের এখন বিকল্প উপায় এবং নতুন নতুন অস্ত্র খুঁজতে হবে। কিন্তু মাঠে সেই বিশেষ অনুভূতিটা আর কোনো দিনই ফিরে পাব না। তাকে মাঠে এত কাছ থেকে উপভোগ করতে পারাটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা একটা সৌভাগ্য। এখন তাকে ছাড়াই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’