News update
  • Pay Scale Push Sans Funding Plan Alarms Economists     |     
  • Early 2026 Spike In Migrant Deaths At Sea Is Alarming     |     
  • Delhi spells out Mecca Pact has security implications for India     |     
  • Trump Announces ‘Largest Oil Deal in World History’ With Venezuela     |     
  • Rescuers retrieve Nepal-China border flood survivors from mud      |     

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক প্রবাস 2026-08-29, 9:48am

maalyyeshiyyaa-e2173ff169080e701a0ae3166f3373d21787975312.jpg




ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে আলোচনা করেন।

এসব সরাসরি বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব এককভাবে মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ওই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকায়, মালয়েশিয়া সরকারের আরোপিত শর্ত পরিবর্তন করা বাংলাদেশের পক্ষে সহজ নয়।

তবে বর্তমান সরকার মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা ও নেগোসিয়েশন করেছে-উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার নিজস্ব আইনি শর্ত ও নীতিমালার সঙ্গে সর্বোচ্চ সমন্বয় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম সাফল্য।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্ট’-এ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিমান ভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই এসব কর্মীর প্রথম বহর সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মধ্য দিয়ে শ্রমবাজারটি পুনরায় চালু হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি মালয়েশিয়া সরকারের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি বিগত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকায় রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ৪২৩টি এজেন্সির মধ্যে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে অবশিষ্ট এজেন্সিগুলোকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশকে এ সুযোগ দিয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। এর আওতায় মালয়েশিয়া তাদের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচিত করেছে এবং বাংলাদেশের অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কর্মী প্রেরণের সুযোগ দিচ্ছে।

এর পাশাপাশি, একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলও এ প্রক্রিয়ায় কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে বিদ্যমান বহুবিধ নিয়মতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একযোগে বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণের সুযোগকে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এজেন্সি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, অতীতে এ ধরনের স্বচ্ছ ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের কোনো নজির ছিল না। এ বাছাই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলে নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে বলেও মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিকেল সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় এ প্রক্রিয়ায় সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

এ অবস্থায় মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, শ্রমবাজার চালুর সঙ্গে সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিকেল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে।

কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে অতীতের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ ছাড়া, অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণকে ঘিরে নানামুখী বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে যে প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, তা দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সব অংশীজনকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দালাল ও প্রতারক চক্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল টেস্ট কিংবা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।