
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
একাত্তরে যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেছিল, তাদের হাতে ক্ষমতা গেলে দেশ টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ে দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজারে নির্বাচনী প্রচারণায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এবার আমরা সুযোগ পেয়েছি, যেন একটা সঠিক সরকার গঠন করতে পারি। ১৯৭১ সালের কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে? আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা, এটা অনেক গর্বের। আমরা সবাই মিলে লড়াই করেছি, একটা বাংলাদেশের জন্য। এটাকে যারা অস্বীকার করেছে, এটার বিরুদ্ধে যারা ছিল, যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেছিল তাদেরকে কি আপনারা বাংলাদেশের ক্ষমতায় আনতে চান? তারা ক্ষমতা চায়। একটা কথা মনে রাখবেন— যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তাদেরকে যদি ক্ষমতায় নিয়ে আসেন এই দেশ টিকবে না।
তিনি বলেন, তারা এখন সুন্দর সুন্দর কথা বলছে। কিন্তু একবার বলে না যে আমরা ’৭১ সালে ভুল করেছিলাম। জাষ্ঠিভাঙ্গায় আমার হিন্দু ভাইদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কেউ ভুলে যাইনি। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আমরা সবাই মিলে দেশটাকে গড়তে চাই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমার বিরুদ্ধে ১১১টা মামলা। এগারো বার জেলে গেছি। চুরি-ডাকাতির জন্য নয়, ভোটাধিকার ও দেশের মানুষের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে গেছি। তার জন্য কোনো দুঃখ নাই, কষ্ট নাই। আমাদের যিনি অত্যাচার করতেন, তিনি দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। সবাইকে ফেলে তিনি একাই চলে গেছেন নিজের জান নিয়ে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ছাড়া এখন দেশটাকে কেউ এগিয়ে নিতে পারবে না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আর কেউ নেই এখন। তাই আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ করে দেবেন। আমরা উন্নয়নের কাজগুলো করব। সবশেষ কথা হচ্ছে, মার্কাটা হচ্ছে ধানের শীষ।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে রূপান্তর করতে চাইলে সবাইকে ভোট দিতে হবে। আমরা ভোটের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছি। তাই দেশকে রক্ষা করতে হবে।
নির্বাচনী প্রচারণায় লিফলেট বিতরণসহ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিয়ম করেন বিএনপি মহাসচিব। এলাকার উন্নয়নসহ ভোটারদেরকে নানা প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।