
সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় সামনে থাকা একটি ভ্রাম্যমাণ গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ২৫ জন। আহতদের আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভিতরে প্রীতি গ্রুপের কারখানার অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর রাত ১১টার দিকে একে একে উদ্ধার করা হয় মরদেহ।
নিহতদের মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার বাহী লরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হয়ে পাঁচজন, বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা সিলিন্ডারের অংশের আঘাতে পথচারী এক নারী নিহত হয়। এছাড়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
ফায়ার সার্ভিস ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর লরির ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভেতরে থাকা ছয়জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লরির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে বিস্ফোরণে একটি সিলিন্ডার ছিটকে কারখানার পাশের একটি কাপড়ের দোকানে আছড়ে পড়লে জয়নাব বেগম নামের এক পথচারী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আশুলিয়া ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর আসে। তবে বাইপাইল সড়কে তীব্র যানজট থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার সামনে থাকা সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান থেকে একের পর এক বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে উঠে। আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতংক।
ডিইপিজেড, কালিয়াকৈর, জিরাবোসহ ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নয় ফায়ার সার্ভিস। তবে তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।