
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বা চলমান কোনো সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার ব্যাপারে তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন এবং বুলগেরিয়া। বিগত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই তিন দেশের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের এ অবস্থানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এসএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিষয়টি প্রকাশ করে।
সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশ তিনটির প্রতিনিধিরা তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের যুদ্ধ বা সামরিক পদক্ষেপে তাদের কোনো অংশীদারত্ব থাকবে না।
একই সাক্ষাৎকারে ওমানের সঙ্গে ট্রানজিট রুট এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়েও কথা বলেন বাঘাই। তিনি জানান, ওমানের সঙ্গে চলমান ট্রানজিট রুট আলোচনা কোনো নির্দিষ্ট উত্তর বা দক্ষিণ পথকেন্দ্রিক নয়।
তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে উল্লেখ করে বাঘাই বলেন, যৌথ সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী সময়সীমার মধ্যে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার যে কথা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র তা অমান্য করার কারণেই এই জলপথ খোলার বিষয়টিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ওমানের সঙ্গে অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা এবং তা ওয়াশিংটনের আচরণের ওপর নির্ভরশীল।