News update
  • ECNEC Approves Three Metro Rail Projects Worth Tk2.5tn     |     
  • Rising violence triggers UNSC emergency meeting on Yemen     |     
  • Gaza remains recovery points to possible war crimes: Volker Turk     |     
  • Moody's ups Bangladesh's outlook to 'stable' from 'negative'     |     

জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রথমবার লাখ ছাড়াল

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক মিডিয়া 2026-09-16, 11:11am

afp_20231121_33ua77f_v1_highres_japanwomencosmetics-0e132e9b11ee1900ac92b248c6dae7441789535492.jpg




জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাপানে বর্তমানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন। তাদের ৮৮ শতাংশই নারী। বিশ্বের মধ্যে জাপানেই শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। খবর বিবিসির। 

দেশটির সবচেয়ে বেশি বয়সী নারী কিশিমোতো ফুয়ো। কিয়োটো শহরের এই নারীর বয়স ১১৪ বছর। আর সবচেয়ে বেশি বয়সী পুরুষ কুমামোতো এলাকার কাটো হিকারু, যার বয়স ১১২ বছর।

জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনইচিরো উয়েনো বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘ, সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করছেন—এটি আনন্দের বিষয়। চিকিৎসা ও প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে মানুষের আয়ু বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি.

তবে একই সঙ্গে দেশের সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা টেকসই রাখা নিয়ে সতর্ক করেছেন মন্ত্রী। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার বিপরীতে কর্মক্ষম ও তরুণ জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ায় জাপানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা জাপানিদের দীর্ঘায়ুর পেছনে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। দেশটির প্রচলিত খাবারে মাছ, শাকসবজি ও ভাতের পরিমাণ বেশি এবং অনেক পশ্চিমা খাদ্যাভ্যাসের তুলনায় স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ কম।

বয়স্ক জাপানিরাও নিয়মিত হাঁটাচলা করেন, গণপরিবহন ব্যবহার করেন, সাইকেল চালান এবং শরীরচর্চা করেন। ফলে বয়স বাড়লেও অনেকেই সক্রিয় জীবনযাপন বজায় রাখেন।

তবে জাপানের জনসংখ্যাগত পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে শিশুদের ডায়াপারের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বেশি বিক্রি হচ্ছে।

বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন নতুন পণ্যও তৈরি করছে জাপানি কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে রয়েছে শরীরের বিভিন্ন অংশ নড়াচড়ায় সহায়তা করার জন্য চালিত এক্সোস্কেলেটন এবং এমন চশমা, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোকাস পরিবর্তন করতে পারে।

অন্যদিকে, দেশটির জন্মহার ক্রমাগত কমছে। একটি জনসংখ্যাকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে গড়ে প্রতিটি নারীর ২ দশমিক ১টি সন্তান প্রয়োজন। কিন্তু গত বছর জাপানের মোট প্রজনন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ দশমিক ১৪-তে নেমে যায়।

জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে দেশটির জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ১২ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছেছিল। ২০৭০ সালের মধ্যে তা কমে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে যেতে পারে, যা সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

বর্তমানে জাপানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০৭০ সালের মধ্যে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

জাপানি কর্তৃপক্ষ এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তনকে ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পরিস্থিতিটিকে ‘নীরব জরুরি অবস্থা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

২০২৫ সালে জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে মাত্র দুটিতে জনসংখ্যা কমেনি। দেশটির জনসংখ্যা হ্রাসের হারও দ্রুত বাড়ছে।

তরুণদের বেশি সন্তান নেওয়ার জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি ও ভর্তুকি চালু করলেও জন্মহার বাড়াতে সেগুলোর তেমন প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম বিয়ের হার, নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সন্তান পালনের বাড়তি ব্যয়সহ বিভিন্ন জটিল কারণ এর পেছনে রয়েছে।

গত কয়েক বছরে জাপানে অভিবাসন বেড়েছে। তবে দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। একই সঙ্গে আরও বেশি অভিবাসী গ্রহণের বিষয়ে দেশটির একাংশের বিরোধিতাও বেড়েছে।

জাপানে শতবর্ষী মানুষের হিসাব রাখা শুরু হয় ১৯৬৩ সালে। তখন ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫৩ জন। ১৯৮১ সালে তা বেড়ে এক হাজার এবং ১৯৯৮ সালে ১০ হাজার ছাড়ায়।

এবারের পরিসংখ্যান জাপানের বার্ষিক ‘বয়স্কদের প্রতি শ্রদ্ধা’ দিবসের আগে প্রকাশ করা হয়েছে। এই দিবসে ১০০ বছর বয়স পূর্ণ করা নাগরিকদের সরকার ব্যক্তিগত চিঠি ও ঐতিহ্যবাহী একটি সাকে পানপাত্র দিয়ে সম্মান জানায়।

তবে বিশ্বজুড়ে শতবর্ষী মানুষের পরিসংখ্যানের নির্ভুলতা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন গবেষণায় প্রশ্ন উঠেছে। তথ্যের ভুল, দুর্বল সরকারি নথি এবং জন্মসনদ না থাকার মতো বিষয়গুলো কিছু দেশে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেশি দেখানোর কারণ হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১০ সালে জাপান সরকারের একটি পারিবারিক নিবন্ধন নিরীক্ষায় ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের নাম পাওয়া যায়, যাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কেউ কয়েক দশক আগেই মারা গিয়েছিলেন।

দুর্বলভাবে নথি সংরক্ষণ এবং কিছু পরিবার বয়স্ক স্বজনের মৃত্যুর তথ্য গোপন করে পেনশন নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে—এ ধরনের সন্দেহকে ওই ভুল হিসাবের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।