
তুলা দিয়ে তৈরি সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল করে দেওয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব বাস্তবায়ন চায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। আজ বৃহস্পতিবার (২২ বৃহস্পতিবার) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সংগঠনের কার্যালয়ে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দাবি না মানা হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানা বন্ধ করে দেব। সরকার তখন বুঝবে, আমরা তো পারতেছি না।
একই প্রসঙ্গে গত সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সম্মেলনে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে সুতা আমদানিতে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানায় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পোশাক খাতের শীর্ষ নেতারা।
ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে কারখানাগুলো এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে মন্তব্য করে আজ সংবাদ সম্মেলনে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর পোশাক খাতে ৪০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হবে। এজন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। তখন এতো সুতা আমদানি করতে পারবে না।
পোশাক খাতের মোট চাহিদার মধ্যে নিট পোশাক খাতের শতভাগ ও ওভেন খাতের ৭০ শতাংশ সুতা দেশি স্পিনিং মিল যোগান দেওয়ার সক্ষমতা রাখে জানিয়ে শওকত আজিজ বলেন, তুলার তৈরি সুতার ওপর বন্ড সুবিধা বাতিল করার প্রস্তাব দ্রুত বাতিল করতে হবে। এখন ভারত থেকে সুতা আমদানি করে তারা পোশাক রপ্তানি করছে।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, এখন ভারত কম দামে সুতা দিচ্ছে, আমাদের মিলগুলো বন্ধ হয়ে গেলে, ভারত কেজিতে ১ ডলার বাড়িয়ে দিলে, তখন তৈরি পোশাক খাত কি করবে? বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ প্রস্তাব দিয়েছে আমদানির তুলনায় প্রতি কেজি সুতা ১০ থেকে ২০ সেন্ট বেশি হলেও দেশি মিল থেকে তারা সুতা কিনতে রাজি। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি নয় বিটিএমএ।
কত সেন্ট বেশি হলে বিটিএমএ রাজি হবে, এমন প্রশ্নে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, এসব কথার কথা। বাস্তবতা নেই। রপ্তানি শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে বন্ড সুবিধা পায়। এর অর্থ হল, শুল্কমুক্তভাবে শতভাগ রপ্তানি পণ্যর কাঁচামাল আমদানি করা যায়।