
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ–একবারই রিয়াল সোসিয়েদাদকে দেখা গেল। রিয়াল মাদ্রিদের এগিয়ে যাওয়ার পর দ্রুতই সমতা ফিরিয়ে তখন ভিন্ন কিছুরই বার্তা দিয়েছিল সোসিয়েদাদ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। লস ব্লাঙ্কোদের একের পর এক আক্রমণে রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হলো সোসিয়েদাদকে। সেটিও ঠিকঠাক করতে পারল না তারা। কিলিয়ান এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে বড় জয় পেল রিয়াল।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিনগত রাত ১টায় লা লিগার ম্যাচে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্বাগতিকদের হয়ে আরেকটি গোল করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
এ নিয়ে নতুন মৌসুমে লিগে দুই ম্যাচ খেলে শতভাগ জয় ধরে রাখল রিয়াল। ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় পয়েন্ট টেবিলেও শীর্ষে আছে হোসে মরিনহোর দল।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণে ওঠে রিয়াল। তৃতীয় মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের পাস থেকে বক্সের বাইরে জায়গা তৈরি করে বাম পায়ে শট নেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তবে বল গোলপোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।
এরপর সপ্তম মিনিটে এমবাপ্পের শট আটকে দেন সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক আলেক রেমিরো। বাম প্রান্ত থেকে ভিনিসিয়াসের বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে দূরহ কোণ থেকে বাম পায়ে জোড়ালো শট নেন এমবাপ্পে। তবে পোস্টের নিচে সতর্ক থেকে নিচের ডান কোণে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ করেন গোলরক্ষক।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে প্রথম বিপজ্জনক আক্রমণ শাণায় সোসিয়েদাদ। তাকেফুসা কুবোর মাপা ক্রস থেকে বক্সে লাফিয়ে উঠে হেড করেন মিকেল ওয়াইরজাবাল। সেখান থেকে অবশ্য কোনো বিপদ ঘটতে দেননি গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া। দারুণ দক্ষতায় বল গ্লাভসবন্দি করেন তিনি।
২১তম মিনিটে আরও একবার রিয়াল মাদ্রিদকে হতাশ করেন সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক। এমবাপ্পের চমৎকার পাস থেকে বক্সের বাম দিক ধরে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ে দারুণ শট নেন ভিনিসিয়াস। তবে পোস্টের ঠিক মাঝখান থেকে বল পাঞ্চ করে জাল অক্ষত রাখেন রেমিরো।
ম্যাচের ৪০তম মিনিটে ডেডলক ভাঙে রিয়াল। ফেদেরিকো ভালভার্দের চমৎকার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান কিলিয়ান এমবাপ্পে। এতে উদযাপনে মেতে ওঠে স্বাগতিক গ্যালারি।
সেই আনন্দ অবশ্য বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৪ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরায় সোসিয়েদাদ। ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে বক্সের মাঝখান থেকে বাম পায়ের চোখধাঁধানো নিচু শটে বল জালের বাম কোণে পাঠিয়ে সোসিয়েদাদকে ১-১ সমতায় ফেরান লুকা সুসিক।
বিরতির পর দেখা মেলে অন্য এক রিয়াল মাদ্রিদের। একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা করে ফেলে সোসিয়েদাদকে। ফলাফল পেতেও খুব বেশি দেরি হয়নি। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে রিয়ালকে আবারও লিড এনে দেন এমবাপ্পে। জুড বেলিংহ্যামের বাড়ানো থ্রু পাস ধরে বক্সের মাঝখান থেকে ডান পায়ের শটে নিজের বল জালে পাঠান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
৮ মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ান ভিনিসিয়াস। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে বল নিয়ে সোসিয়েদাদের বক্সে বেশ খানিকটা সময় কাটান বেলিংহ্যাম। তবে শট নেওয়ার জায়গা করতে পারছিলেন তিনি। শেষমেষ ক্রস বাড়ান সুবিধাজনক জায়গায় থাকা ভিনিকে। বল পেয়ে কাছ থেকে জালে ঠেলে দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
ম্যাচের ৮০তম মিনিটে সোসিয়েদাদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে নেন এমবাপ্পে। ভিনিসিয়াসের থ্রু পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এবারের লিগে এটাই প্রথম হ্যাটট্রিক।
সফরকারীদের জালে অবশ্য আরও একবার বল জড়িয়েছিল রিয়াল। নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মিনিটে কার্লোস এস্পির পাস থেকে ব্রাহিম দিয়াজ জাল খুঁজে নেন। কিন্তু ভিএআর চেক করে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।