
ঢাকের প্রতিটি বোল যেন বলে দিচ্ছে, বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসছে। ধূপের ধোঁয়ায়, প্রদীপের আলোয় আর ভক্তদের প্রার্থনায় শরতের আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এক অন্যরকম আবেগ। মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা, ফুল হাতে ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলি আর শঙ্খের ধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। আনন্দের এই উৎসবের মাঝেই যেন ধীরে ধীরে সুর তুলছে বিদায়ের বাঁশি। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে এমনই ভক্তি, আনন্দ আর বিষাদমিশ্রিত আবহ মানিকগঞ্জে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গার চরণে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ, পূজা-অর্চনা, ঢাকের ছন্দ আর ভক্তিগীতিতে মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। নতুন পোশাকে সেজে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পূজামণ্ডপে আসেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা। কেউ দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন শান্তি ও সমৃদ্ধির, কেউ চান প্রিয়জনের মঙ্গল, আবার কেউ নীরবে কামনা করেন পৃথিবীর সব অশুভ শক্তির বিনাশ।
এবার মানিকগঞ্জ জেলায় ৫৭৫টি মণ্ডপে উদ্যাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। এর মধ্যে ৫৭৪টি প্রতিমা পূজা এবং একটি ঘটপূজা। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ২১টি। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুর্গোৎসব ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
তবে নবমীর আনন্দের আড়ালেও উঁকি দিচ্ছে বিদায়ের বিষাদ। আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা, তারপরই মর্ত্যের মণ্ডপ ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন দেবী দুর্গা- এমন বিশ্বাস ঘিরে ভক্তদের মনে তৈরি হয় আবেগের ঢেউ। যে দেবীকে বরণ করে নিতে এত আয়োজন, এত আলো, এত প্রার্থনা- তাকে বিদায় জানানোর ভাবনাই ভারী করে তোলে মন।
বাংলার চিরায়ত বিশ্বাসে দেবী দুর্গা শুধু শক্তির প্রতীক নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির জাগরণ। তাই নবমীর প্রার্থনায় ভক্তদের আকাঙ্ক্ষা- পৃথিবী থেকে দূর হোক হিংসা-বিদ্বেষ, মানুষের হৃদয়ে জাগুক ভালোবাসা, আর সম্প্রীতির বন্ধনে আরও দৃঢ় হোক সমাজ।
শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোল আর ঢাকের মায়াবী ছন্দের সঙ্গে মিশে আছে নবমীর এই আবেগ। উৎসবের আলো নিভে যাবে, মণ্ডপের কোলাহল থেমে যাবে, কিন্তু হৃদয়ে রয়ে যাবে দেবী আরাধনার স্মৃতি।