News update
  • Political division undermining fight against ‘economic security emergency’     |     
  • Unilateral sanctions expand amid eroding multilateralism     |     
  • Padma Barrage work to open next Jan-Mar: Water Minister     |     
  • BSF's attempt to push-in 12 through Satkhira border foiled     |     
  • Govt Reviewing 101 MoUs, Agreements Signed With India     |     

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের নতুন ছক

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক জনসম্পদ 2026-09-11, 5:32pm

retw4534534-26a4918694cdc25a98684c85543e9fbf1789126323.jpg




সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল গেজেট আকারে প্রকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এখন। নতুন এই বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। ভেটিং শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জারি হবে প্রজ্ঞাপন।

এরই মধ্যে জানা গেছে, ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নে নতুন ছক তৈরি করছে সরকার। প্রজ্ঞাপন জারির পর সাতটি পৃথক এসআরওর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। একইসঙ্গে আইবাস প্লাস প্লাসে চাকরিজীবীদের তথ্য হালনাগাদ করে অনলাইনে নতুন বেতন নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে পদ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতির তথ্য অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতন নির্ধারণ হবে।

প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক সাত এসআরও বা বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ থাকবে। বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ-এ সাত ক্ষেত্রের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে কার্যকরের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে এসব আদেশে।

এছাড়া, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ হবে আইবাসে। এ ব্যবস্থায় প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনলাইনে আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে চাকরি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামোর প্রয়োগে যেসব কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য রয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের কাজ আরও স্পষ্ট হবে।

সাতটি পৃথক এসআরও-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো প্রয়োগের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি আইবাস প্লাস প্লাস-এ তথ্য হালনাগাদ এবং বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, নবম পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সাতটি পৃথক এসআরও জারি করা হবে। এগুলো হলো— সিভিল বা বেসামরিক প্রশাসনের সাধারণ বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন কাঠামো; পুলিশ বিভাগ-পুলিশ সদস্যদের বেতন, ভাতা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা নির্ধারণ; বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এই বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পৃথক বিধান; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ-সরকারি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কাঠামো; স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান-সরকারের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন কাঠামো; সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ—সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য সংশ্লিষ্ট যৌথ বাহিনী নির্দেশনা ও বেতন কাঠামো এবং জুডিশিয়াল বা বিচার বিভাগ-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা ও বিচারকদের জন্য প্রযোজ্য কাঠামো।

অর্থাৎ একটি সাধারণ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূল কাঠামো কার্যকর হলেও বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত প্রয়োগবিধি পৃথক আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থায়। অর্থ বিভাগ চাইছে সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত তথ্য আইবাস প্লাস প্লাস-এর আওতায় আরও পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ে আসতে। বর্তমানে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা।

সরকারি কর্মচারীদের অনলাইন বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থায় জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুযোগও রয়েছে। এর মধ্যে পদ, গ্রেড, মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তথ্য পূরণ ও যাচাই হয়ে গেলে নতুন পে-স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা কত হবে, তা সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ হয়ে যাবে।

এর ফলে প্রত্যেক কর্মচারী নিজের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোয় তার আর্থিক অবস্থান জানতে পারবেন। আইবাস প্লাস প্লাস-এর বর্তমান ব্যবস্থায়ও অনলাইন বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ ও আয়কর-সংক্রান্ত হিসাব তৈরি এবং বেতন-পেনশন ইএফটির মাধ্যমে দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। নবম পে-স্কেলে গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট ও বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর জন্য আলাদা বিধান থাকায় বিদ্যমান সফটওয়্যারকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের লক্ষ্য— কাগজে-কলমে বেতন নির্ধারণের বদলে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা। এতে একজন কর্মচারীর বেতন নির্ধারণে হিসাবরক্ষণ অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।