News update
  • US, Bangladesh explore expanding collaboration in energy sector     |     
  • Tarique wraps up 2nd phase of campaign with 6 rallies in 14 hrs     |     
  • Tigers return but deer on decline in Sundarbans     |     
  • Dhaka worst in global air pollution with very unhealthy AQI     |     
  • JICA, Milestone School sports festival to support students’ emotional recovery     |     

মোদির বিরুদ্ধে বাঁশি নিয়ে মাঠে থালাপতি বিজয়

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক গনতন্ত্র 2026-01-26, 9:37pm

rtetertertewre-c407d33461636042bc900bbfc3bfa1581769441873.jpg




থালাপতি বিজয়। পারিবারিক নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। দক্ষিণী সিনেমায় রাজত্ব করার পর এখন নেমেছেন রাজনীতির মাঠ কাঁপাতে। এরই মধ্যে রাজনীতির মঞ্চে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য নতুন আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন দক্ষিণী সিনেমার এই সুপারস্টার। 

মোদির এক যুগের আধিপত্যে কাঁপন ধরাতে বিশাল ভক্তশ্রেণি নিয়ে থালাপতি এবার নেমেছেন নির্বাচনি লড়াইয়ে। পর্দার নায়ক থেকে এরই মধ্যে তিনি হয়ে উঠেছেন জনতার নায়ক।

তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) নামে রাজনৈতিক দল তৈরি করেছেন তিনি। সেই দলের প্রতীক হিসেবে পেয়েছেন বাঁশি। এককভাবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিজয় এখন তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন মোদির জন্য। বিজেপি যেখানে হিন্দুত্ববাদ ও কেন্দ্রীকরণের রাজনীতি করে, সেখানে বিজয়ের দল টিভিকের আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায় ও বামপন্থা। তামিলনাড়ুর মাটির রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই আদর্শগুলো মোদির কেন্দ্রীয় নীতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে, টিভিকের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো এবং লাখো মানুষের সমর্থন মোদির রাজনীতির বিরুদ্ধে নতুন এ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

রাজনীতির ময়দানে নেমে বিজয়ও অবশ্য মুখোমুখি হচ্ছেন অনেক জটিলতা আর কূটচালের। এমনকি সিনেমা নিয়েও মোদি ও তার জোটের অংশ ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের হেনস্তার শিকার হচ্ছেন নায়ক। তবে, এতে তাতে দমে যাওয়ার পাত্র নন তিনি।

তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের অভিনয় জীবনের শেষ সিনেমা হিসেবে আলোচনায় রয়েছে ‘জন নায়াগন’। এই সিনেমা দিয়েই রূপালি পর্দাকে বিদায় জানিয়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কথা রয়েছে বিজয়ের। আগামী ৯ জানুয়ারি সিনেমাটির মুক্তির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেন্সর জটিলতায় আটকে যায় সিনেমাটির মুক্তি।

সেন্সর বোর্ডের আপত্তির কারণে বর্তমানে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ‘জন নায়াগন’। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির বেশ কিছু রাজনৈতিক সংলাপ ও স্পর্শকাতর দৃশ্য নিয়ে আপত্তি তুলেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন। বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী, এসব অংশ বাদ দিলে তবেই মুক্তির অনুমতি দেওয়া হবে থালাপতির ‘জন নায়াগন’কে।

তবে, এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করতে নারাজ থালাপতি বিজয়। প্রযোজক ও পরিচালক কিছু দৃশ্য পরিবর্তনের বিষয়ে রাজি হলেও বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সংলাপ ও দৃশ্যই সিনেমার প্রাণ। তার মতে, এগুলো বাদ দিলে সিনেমার মূল বক্তব্যই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই তিনি।

আগামী ২৭ জানুয়ারি মাদ্রাজ হাইকোর্টে আবারও সিনেমাটি নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিনই ‘জন নায়াগন’-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এদিকে, তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বিজয়। তার রাজনৈতিক দল টিভিকে ইতোমধ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। সম্প্রতি রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিজয় এবং দলের প্রতীক হিসেবে বাঁশি উন্মোচন করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমার মুক্তি নিয়ে এই জটিলতার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে টিভিকের সম্ভাব্য জোট এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির চাপ মিলিয়েই বিজয়ের শেষ সিনেমাটি এখন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে।