News update
  • Pakistan Welcomes Bangladesh’s Interest in Makkah Pact     |     
  • Nepal Floods Highlight Rising Glacier Risks in Himalayas     |     
  • Deadly floods cause widespread destruction in China, Nepal     |     
  • 80 maunds (3 tons) of hilsa caught in one net in the Bay     |     
  • Glacier collapse likely caused Nepal-Tibet flood, scientists say     |     

কানাডার সঙ্গে বিরোধ, অন্টারিও লেকের নাম বদলে দিলেন ট্রাম্প!

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক কুটনীতি 2026-08-28, 11:06am

img_20260828_110443-268581a3fd878dc0445e50bd75ba712d1787893608.jpg




কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই দেশটির সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া অন্টারিও হ্রদের (লেকের) নাম বদলের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘আমেরিকা লেক’।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, এখন থেকে হ্রদটিকে ‘আমেরিকা লেক’ বলা হবে। ভিডিওতে একটি মানচিত্রে থাকা ‘অন্টারিও লেক’ নামটি কেটে তার ওপর নতুন নাম লিখতেও দেখা যায় তাকে।

নতুন আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অন্টারিও লেকের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মানচিত্র, নথি, চুক্তি ও সরকারি সংস্থাগুলোর যোগাযোগে নতুন নাম ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক নামের সরকারি তথ্যভান্ডারেও নামটি পরিবর্তন করা হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এই নাম পরিবর্তন মানা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশ, রাজ্য, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এরই মধ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।

ফরাসি ভাষায় দেওয়া এক বক্তব্যে কার্নি বলেন, এই জলভাগের নাম অন্টারিও হ্রদ এবং আজ ও চিরকাল এটি অন্টারিও লেকই থাকবে। তিনি জানান, নামটি কানাডার দেওয়া নয়; এর উৎস ওয়েনডাট জনগোষ্ঠীর একটি শব্দ, যার অর্থ সুন্দর বা মহান হ্রদ। নামটির ইতিহাস ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। 

অন্টারিও প্রদেশের প্রধানমন্ত্রী ডগ ফোর্ডও ট্রাম্পের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার বাণিজ্য আলোচনা গত ২১ আগস্ট ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর উভয় পক্ষই নতুন করে শুল্ক আরোপের পথে যায়।

এর মধ্যেই সোমবার ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘ব্যাপক চাপ’ তৈরির আহ্বান জানান এবং ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। জবাবে ট্রাম্প ফোর্ডকে অবজ্ঞা করে মন্তব্য করেন।

এরপর মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, অন্টারিওর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আর আগের মতো থাকবে না—এমন যুক্তিতে হ্রদের নাম ‘আমেরিকা লেক’ করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে তার প্রশাসন।

অন্টারিও লেকের নাম বদলের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের আগের কয়েকটি নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। এর আগে তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘আমেরিকা উপসাগর’ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেই নাম বিশ্বজুড়ে সর্বত্র গ্রহণ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলো নতুন নাম ব্যবহার করলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এখনো মেক্সিকো উপসাগর নামটিই ব্যবহার করছে। গুগল মানচিত্র অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য ‘আমেরিকা উপসাগর’ এবং মেক্সিকোর ব্যবহারকারীদের জন্য ‘মেক্সিকো উপসাগর’ দেখাচ্ছে।

অন্টারিও লেকের নাম পরিবর্তনের পক্ষে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বৃহৎ হ্রদগুলোর মিঠাপানির পরিবেশ রক্ষায় সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। এছাড়া হ্রদের বেশির ভাগ গভীর অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের মধ্যে রয়েছে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তবে ঐতিহাসিকভাবে ‘অন্টারিও’ নামটির ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠারও বহু আগে থেকে চলে আসছে। ফলে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সূত্র: ইয়াহু