News update
  • Dhaka Tops Global Air Pollution Index Again     |     
  • UN Unveils First Global AI Assessment Report     |     
  • Balogun scores and sees red as US beat Bosnia 2-0     |     
  • PM reviews projects to ease city’s traffic congestion     |     
  • Efforts underway to bring Hasina back for trial: Shama     |     

জাপান জয়ের টার্গেটে সার্ফার মান্নান ও ফাতেমা

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক অন্যান্যক্রীড়া 2026-04-28, 7:13am

8a72e2a0728301d465bd3329e20518c1657a5f65a042ffd3-c92a838cb0004d3d6f53bec7344ffdc81777338836.png




জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের সার্ফিং ইভেন্টে প্রথমবারের মতো লড়াই করবেন বাংলাদেশি সার্ফাররা। কক্সবাজারের উত্তাল ঢেউয়ে এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন দুই সার্ফার মোহাম্মদ মান্নান ও ফাতিমা আক্তার। তবে পদক জিততে আরও নিবিড় প্রস্তুতির প্রয়োজন বলে মনে করেন তাদের কোচ।

জাপানের ঢেউয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রশিক্ষণের জন্য সার্ফারদের শ্রীলঙ্কা অথবা ইন্দোনেশিয়ায় পাঠাতে চায় বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন। তবে প্রস্তুতির জন্য শেষমেশ তারা কোথায় যাচ্ছেন, তা এখনও নির্ধারণ হয়নি।

দেশের বুকে জন্ম নেয়া এক নতুন স্বপ্ন এখন সমুদ্রের ঢেউ পেরিয়ে পৌঁছে যেতে চায় বিশ্বমঞ্চে। কক্সবাজারের সৈকতে প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় মান্নান-ফাতেমাদের এই লড়াই।

মান্নান আজ জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়নদের একজন। কিন্তু তার গল্পের শুরুটা ছিল খুব সাধারণ। স্কুলের বন্ধু মুরাদের কাছ থেকে স্কেটবোর্ড চালানো শেখেন তিনি। একদিন মুরাদের হাত ধরেই পানিতে নামেন, প্রথমবার দেখেন সার্ফিং বোর্ড। সেখান থেকেই শুরু হয় তার সার্ফিং শেখার যাত্রা।

মান্নান বলেন, ‘সার্ফিংয়ে ভালো করার পথে সবচেয়ে বড় সমর্থন পেয়েছি কোচ রাশেদ আলমের কাছ থেকে। তিনি শুধু প্রশিক্ষণই দেননি, নিজের সার্ফিং বোর্ডও ব্যবহার করতে দিয়েছেন। তিনি না থাকলে হয়তো এত দূর আসতে পারতাম না।’

এই জার্নি মোটেও সহজ ছিল না মান্নানের জন্য। আর্থিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে নিজেদের আয় দিয়েই অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয়েছে। ইউনুস, সাগর, জাহিদ, জিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে সামনে আসাটা কঠিন হলেও কঠোর পরিশ্রমের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এশিয়ান গেমস নিয়ে মান্নান বলেন, ‘এটি স্বপ্নের মতো। বাংলাদেশের হয়ে নির্বাচিত হওয়াটাই অনেক বড় অর্জন। এই স্বপ্ন পূরণে প্রতিদিন ভোর ৬টায় ঘুম থেকে উঠে দৌড়, ফিটনেস ট্রেনিং ও সমুদ্রে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছি। জাপানে যেতে পারলে লাল-সবুজের পতাকা শুধু এশিয়াতেই নয়, পুরো বিশ্বের সামনে উঁচু করে ধরার চেষ্টা করব।’

ফাতেমা আক্তার একসময় জানতেনই না সার্ফিং কী। কৌতূহল থেকে সৈকতে গিয়ে প্রথমবার বোর্ডে দাঁড়ানোর আনন্দ তাকে সার্ফিংয়ের নেশায় বুঁদ করে। এখন স্কুল ছুটির পর প্রতিদিনই সৈকতে ছুটে আসেন তিনি।

ফাতেমা বলেন, ‘সার্ফিংটা আমার রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। আমি অনেক স্বপ্ন দেখি সার্ফিং নিয়ে। অনেক পরিশ্রম করে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এতে আমার পরিবারও অনেক খুশি।’ তিনি চান, ফুটবল বা ক্রিকেটের মতো সার্ফিংও দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠুক।

মান্নান-ফাতেমাদের এই স্বপ্নযাত্রার পেছনের কারিগর বাংলাদেশ বয়েজ অ্যান্ড গার্লস সার্ফিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও কোচ রাশেদ আলম। আমেরিকা, মালদ্বীপ ও ভারতে সার্ফিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এখন গড়ে তুলছেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

রাশেদ আলম বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের সার্ফার তৈরি করা এবং একদিন বাংলাদেশকে অলিম্পিকের মঞ্চে তুলে ধরা। অষ্টম জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতায় আমার ক্লাবের ফাতেমা নারী বিভাগে এবং মান্নান ওপেন বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদের মতো প্রতিভাবানদের সঠিক সুযোগ দিলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভালো করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে সারা বছর মানসম্মত ঢেউ থাকে না। তাই দক্ষতা বাড়াতে বিদেশে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। এশিয়ান গেমসের আগে শ্রীলঙ্কা বা ইন্দোনেশিয়ায় ১০-১৪ দিনের একটি ক্যাম্প হলে সার্ফাররা আরও প্রস্তুত হতে পারবে।’

বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র সাইফুল্লাহ সিফাত জানান, দেশের সার্ফিং এখন উন্নয়নের ধারায় রয়েছে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নদের মধ্য থেকে এশিয়ান গেমসের জন্য খেলোয়াড় বাছাই চলছে, যেখানে মান্নান ও ফাতেমা অন্যতম।

সিফাত বলেন, ‘জাপানের ঢেউ বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তাই এশিয়ান গেমসের আগে সার্ফারদের আন্তর্জাতিক মানের ঢেউয়ে অনুশীলনের জন্য শ্রীলঙ্কা বা ইন্দোনেশিয়ায় ক্যাম্প আয়োজনের চিন্তা করছে অ্যাসোসিয়েশন।’ তার বিশ্বাস, ঘাটতিগুলো পূরণ করতে পারলে বাংলাদেশের সার্ফাররাও বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে।