News update
  • Bangladesh Eyes Smarter Future With AI-Driven Services     |     
  • Dhaka’s air quality has been recorded ‘moderate’ on Saturday     |     
  • Bailey bridge collapse disrupts direct Dhaka link to Chandpur     |     
  • No role to play in Hasina presser, Not endorse what was said: Delhi     |     
  • Saudi, Turkey, Pakistan sign ‘Mecca Joint Defense Agreement’     |     

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধমকে’ থামলো ইসরায়েল, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-06-19, 10:06pm

tgertertwerwe-223dadd69ff1b76cd15c0f22c26cc0d11781885194.jpg




যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তার পর অবশেষে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। দুই পক্ষের মধ্যকার এই যুদ্ধবিরতি শুক্রবার (১৯ জুন) থেকেই কার্যকর হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত ইরান-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক মেনে নিতে ইসরায়েল সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য মিত্র এখন যুক্তরাষ্ট্রই। ওয়াশিংটনের এমন কঠোর অবস্থানের পরই মূলত ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য হয়।
লেবাননের স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে মার্কিন ওই কর্মকর্তা যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই সময় থেকেই তা কার্যকর করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, দিনের শুরুতে উভয় পক্ষ তীব্র সংঘর্ষে জড়ালেও পরবর্তী সময়ে তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় এই সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
তবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত অর্থাৎ বৃহস্পতিবার(১৮ জুন) রাতভর লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলার জেরে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। এই আলোচনা স্থগিত হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবশেষ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত ও আরও বহু আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে তারা চলমান যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। অবশ্য ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে এ সময় হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্মুখ সংঘর্ষে ইসরায়েলের চার সেনাও নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তিতে সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধের কথা বলার পরপরই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটল।
হিজবুল্লাহর একজন ঊর্ধ্বতন আইনপ্রণেতা এই বিষয়ে বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আর কোনো আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে ইরান। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই বৈঠকের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। তেহরান নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের এই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আপাতত ‘স্থগিত’ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা। ১৪ দফার এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, দেশটির পুনর্গঠনে বিশেষ তহবিল গঠন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, নানা বিষয়ে ‘ভিন্ন মত’ থাকা সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বেপরোয়া হয়ে সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করার’ কারণেই মূলত এটি ঘটেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘সরাসরি আলোচনা’ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই আলোচনার মানেই যে ‘শত্রুর অবস্থান’ মেনে নেওয়া নয়, তা-ও স্পষ্ট করে দেন তিনি।