News update
  • France Student Protests Spread Nationwide, Over 400 Detained     |     
  • State Minister Amit urges global firms to join BD offshore bidding     |     
  • Heart Disease Linked to 777 Daily Deaths in Bangladesh     |     
  • US Tech Firms Eye Over $1b Investment in Bangladesh     |     
  • Dhaka ranks 6th globally in air pollution on Tuesday     |     

ইতিহাসে প্রথমবার নারী প্রধানমন্ত্রী পেল মরক্কো

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক মিডিয়া 2026-09-30, 7:14am

img_20260930_071216-f80d40bf6c959b71a38fd83043bf4ec71790730885.jpg




উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী এই নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও আইনজীবীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যা মরক্কোর জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই প্রধানমন্ত্রীকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় নির্বাচনের চার দিন পর এই ঘোষণা এলো, যেখানে ফাতিমা জাহরার মধ্যপন্থী দল ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (প্যাম)’ সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছে। তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর ফাতিমা জাহরা মানসুরি পুরো আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী, যিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলেন।

মরক্কোর নির্বাচন ব্যবস্থা অনুযায়ী কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বেশ কঠিন। তাই আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে ফাতিমা জাহরা একটি জোট সরকার গঠন করবেন। তার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাঁধে এখন বিশাল দায়িত্ব।

বিশেষ করে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তদারকির পাশাপাশি দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করবে তার প্রশাসন।

২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মরক্কোর সংবিধানে আনা সংস্কার অনুযায়ী, রাজা দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলেও সংসদীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল থেকেই তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে হয়। এর আগে রাজা কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারতেন।

২০০৮ সালে রাজার বাল্যবন্ধু ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ফুয়াদ আলী এল হিম্মার হাত ধরে 'প্যাম' গঠিত হলে ফাতিমা জাহরা এই দলে যোগ দেন। ফ্রান্সের মন্টপিলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করা ফাতিমা ২০২৪ সালে দলের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন। এর আগে তিনি মারাকেশের মেয়র এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার বাবা আবদেররহমান এল মানসুরি সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মারাকেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি ‘মারাকেশের পাশা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফাতিমা জাহরা সম্প্রতি মারাকেশে জমি লেনদেনের বিষয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অজ্ঞাত হ্যাকারদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিলেন। তবে তিনি এই অভিযোগগুলোকে মানহানিকর আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে মরক্কোর ১ কোটি ৫৮ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ভোটার প্যামকে সমর্থন দিয়েছেন, যা দলটির প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বড় বিজয়। গত জুলাইয়ে সিউটা অভিবাসন সংকট এবং গত বছর তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম নির্বাচন। এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী সরকার গঠনের দিকে।

প্যাম সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, মধ্যপন্থী ইসলামি দল ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ এবং বামপন্থী ‘ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফট’-এর মতো কয়েকটি দল এরই মধ্যে বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।