News update
  • Customs detect bid to import 4 luxury cars as used parts     |     
  • Nearly 1,000 missing in Tibet, Nepal in catastrophic glacial floods     |     
  • Glacial collapse-induced floods kill at least 160 people on Nepal-China border     |     
  • At Least 160 Killed in Nepal-China Border Flash Floods     |     
  • 7 fake CID members held in Magura kidnapping attempt     |     

ভারতের চার কোম্পানি ও তিন নাগরিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক মিডিয়া 2026-08-27, 8:40am

img_20260827_083947-55af63e65434e6aad7fe7fb0f0b9ad181787798414.jpg




ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের চারটি কোম্পানি ও তিন নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের বৈশ্বিক আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ওয়াশিংটনের চলমান অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে বুধবার (২৬ আগস্ট) এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ভারতের তিনটি প্রতিষ্ঠান মিলে প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে।

এর মধ্যে সদাশিবা ওভারসিজ লিমিটেড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব চালানের কয়েকটির সঙ্গে যুক্ত ছিল আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বনজুর কমোডিটি এফজেডই।

এ ছাড়া পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতীস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড— দুই প্রতিষ্ঠানই প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা চতুর্থ প্রতিষ্ঠান পোর্টিজ পার্টনার্স এলএলপি। ভারতভিত্তিক এই কাস্টমস ব্রোকার ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ভারতে আনার একাধিক চালান সহজতর করতে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের।

কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি তিন ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা হলেন- পিপি সফটটেকের পরিচালক প্রশান্ত গর্গ এবং পোর্টিজ পার্টনার্সের সঙ্গে যুক্ত ইন্দ্রিসমিয়া আশারাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রঙ্গি।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরান সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হবে। ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ওয়াশিংটন সতর্ক করে আসছে।

এবারের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় চীন ও হংকংভিত্তিক প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান এবং চীনের চার নাগরিকও রয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন।

ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় তার দেশ পুরোপুরি প্রস্তুত। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের দুই বছরের একটি পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফও মার্কিন হুমকিকে গুরুত্ব দেননি। তার দাবি, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এসব হুমকিকে গুরুত্বহীন মনে করছে। নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানকে ঘিরে সরাসরি সামরিক সংঘাতের বদলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোয় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা ব্যবসায়ীদের আশঙ্কার তুলনায় কিছুটা কম কঠোর হওয়ায় তেলের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি।

এদিকে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘অস্থায়ী যৌথ নৌপথ’ চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ থেকে মাইন সরানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তবে ইরান ফের সামরিক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা হলে তেলের দাম আবারও দ্রুত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে