News update
  • PM Tarique inaugurates three pilot SDG villages     |     
  • Indian High Commissioner Trivedi meets PM Tarique     |     
  • SSC, Equivalent Exam Results Published, Pass Rate 62.25%     |     
  • Global Oil Prices Rise Again Amid Hormuz Uncertainty     |     
  • 17 Bangladeshis Killed in Saudi Arabia Factory Fire     |     

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ব্যাঙ্কিং 2026-03-09, 10:46pm

gretertewr-d9fb98ed72e7a97bc330cc436dc7586a1773074787.jpg




বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর বা বিক্রির অর্থ নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ প্রত্যাবাসনে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি প্রয়োজন হবে না। ব্যাংকগুলো নিজস্ব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল ১০ কোটি টাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, বিদেশি বিনিয়োগকারীর শেয়ার হস্তান্তরের অর্থ দেশে ফেরত নেওয়ার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগতো। ২০২০ সালে ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই সীমা বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে স্বাধীন মূল্য নির্ধারকের মাধ্যমে নির্ধারিত ন্যায্যমূল্য থাকলে ব্যাংকগুলো এখন সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে নিজস্বভাবে অর্থ প্রত্যাবাসনের অনুমোদন দিতে পারবে। এছাড়া সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নির্ধারিত নেট অ্যাসেট ভ্যালু অতিক্রম না করলে লেনদেনের পরিমাণ যতই হোক, ব্যাংকগুলোই অর্থ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।

ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও সহজ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে এখন থেকে আর স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রয়োজন হবে না।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) এবং সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) নেতৃত্বে কমিটি গঠন করতে হবে। মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই ও অর্থ প্রত্যাবাসনের অনুমোদন দেবে এই কমিটি। এতে সিএফএর মতো পেশাগত সনদধারী সদস্য রাখতে হবে।

এছাড়া, গ্রাহকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে মূল্যায়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য যুক্তিসংগত মাশুল নিতে পারবে ব্যাংকগুলো। প্রজ্ঞাপনে তিনটি গ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন পদ্ধতি—নেট অ্যাসেট ভ্যালু পদ্ধতি, মার্কেট অ্যাপ্রোচ এবং ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো পদ্ধতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

লেনদেনের সময় কমানো ও স্বচ্ছতা বাড়াতে কিছু প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনও এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ থেকে ছয় মাসের বেশি পুরোনো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নতুন নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।

কোনো অসঙ্গতি না থাকলে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করবে ব্যাংকগুলো। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হলে তিন কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন পাঠাতে হবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এছাড়া, ব্যাংক পর্যায়ে সম্পন্ন সব লেনদেনের তথ্য ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।