News update
  • PM Proposes Five Urgent Steps to Resolve Rohingya Crisis     |     
  • Govt Appoints Indonesian Firm to Operate Cox’s Bazar SPM     |     
  • ADB lowers Bangladesh’s growth forecast to 4 % in FY2027     |     
  • El Niño Tests Global Readiness for a Changing Climate     |     
  • Dhaka's air quality recorded moderate on Wednesday morning      |     

কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক প্রবাস 2026-08-06, 11:11am

img_20260806_110918-6dbca916d65f2d20491ad15dc78af44c1785993113.jpg




কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আজ (বুধবার) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে দিবসটি উদযাপন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানউল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার। 

অনুষ্ঠানে নেপালপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ, সার্ক সচিবালয় ও ICIMOD সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ, সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংকের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং নেপালের জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ঢাকা হতে প্রেরিত মাননীয় রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আমানউল্লাহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার ব্যক্তিগত অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে বয়স, ধর্ম ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পতনের পথ প্রশস্ত করেছিল। তিনি প্রশাসন, শিক্ষা, আর্থিকসহ বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ কিভাবে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল তা তুলে ধরেন।  

তিনি বলেন, যুবসমাজের নেতৃত্বে সংঘটিত এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান থেকে দেশের সকল অংশীজন, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর শিক্ষা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা গ্রহণের ওপর আলোকপাত করেন। 

সুশাসন, জনগণের মর্যাদা, অধিকার এবং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করনের আহ্বান জানান।

সমাপনী বক্তব্যে নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন| যা ছিল জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। 

বর্তমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নীতির আওতায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়নের এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে। তিনি বলেন, এ নীতিতে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণকে নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং একটি মর্যাদাশীল, আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।  

রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে, যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য শহীদরা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন।

অনুষ্ঠানের সকল বক্তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং যারা আহত হয়েছেন ও চরম দুর্ভোগ সহ্য করেছেন তাদের প্রতিও গভীর সম্মান জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকল অতিথিকে বাংলাদেশী খাবার দিয়ে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়ন করা হয়।