
বিভিন্ন ধরনের ফলের মধ্যে অন্যতম একটি ফল হলো কুল বা বরই। বাজারে শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের, নানা আকারের বরই। মৌসুমি এই ফল শরীরের জন্য কেন উপকারী, তা হয়তো অনেকেই জানেন না। পুষ্টিবিদরা বলছেন, একাধিক পুষ্টিগুণে ভরপুর মৌসুমি এ ফল।
কুল অত্যন্ত চমৎকার একটি রক্ত বিশুদ্ধকারক ফল। উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য টক বরই অত্যন্ত উপকারী। ডায়রিয়া, ক্রমাগত মোটা হয়ে যাওয়া, রক্তশূন্যতা, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি রোগ নিরাময়ে চমৎকার কাজ করে এই ফলটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছে, ভিটামিন, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কুল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি স্নায়ু এবং হাড়ের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত উপকারী। এই ফলটি পটাসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের রক্ত প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এতে থাকা ভিটামিন সি আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে স্বাস্থ্যকর ও ব্রণ মুক্ত রাখে, পাশাপাশি ত্বক উজ্জ্বল করে তোলে। ফ্রি ব়্যাডিক্যালের সঙ্গে লড়াই করার পাশাপাশি এটি কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে। ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ দূর করতেও এটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
হাড়ের সমস্যা দূর করতে, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে, কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়েও এটি কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে কুল। চীনের প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসারে, কুল অনিদ্রার সমস্যা নিরাময় করতে সহায়তা করে। বীজসহ পুরো ফলটাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফাইটোকেমিক্যাল, পলিস্যাকারাইড, ফ্ল্যাভোনয়েড, স্যাপোনিন সমৃদ্ধ। এইসব উপাদান স্নায়ুকে শান্ত করে, মন ও শরীরকে শিথিল করে এবং ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে।
স্ট্রেস কমাতেও জুড়ি নেই এই ফলের। মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখা সহ এটি উদ্বেগ কমাতেও অত্যন্ত সহায়ক। এছাড়া কুল হরমোনের মাত্রা ঠিক রাখতেও সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন এই মৌসুমি ফলটি খাওয়ার অভ্যাস শুরু করতে পারেন।