News update
  • Bangladesh Has 1.584m Tonnes of Fertiliser in Surplus      |     
  • July Uprising crimes: Obaidul Quader, six others get death penalty     |     
  • School relocation row halts Gaibandha char children’s learning     |     
  • REHAB president's post declared vacant over loan default     |     
  • China criticises idea it is in 'malicious competition' over AI     |     

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি : জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি প্রশাসন

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ক্যাম্পাস 2026-09-15, 7:11am

img_20260915_070906-c876514e5c3c7050ac86746300d1c3481789434691.jpg




পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় রাখার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক  ফররুখ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সংবাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ ও লালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এটি উদ্বোধন করেন।

এতে আরও বলা হয়, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডার, ১৯৭৩ এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি,  রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডিন্যান্স অ্যান্ড রেগুলেশনসের চ্যাপ্টার ১৪ এর ধারা ৪ এর নোট অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ যেকোনো সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে নেবেন। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনোরূপ অনুমতি বা আলোচনা করে স্থাপন করেনি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এখতিয়ার বর্হিভূত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, এ ছাড়া ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষক মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদ নিজেদের উদ্যোগে পৃথক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না। একই সঙ্গে এই ওয়েবসাইট চালু করে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্যও বাইরে আনা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং ইভাল্যুশনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে, যা বাস্তবায়নের পথে। ফলে অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার শামিল। এমতাবস্থায় ডাকসুর এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও তার সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই পরিচালিত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আপস করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ, পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।