News update
  • Bay of Bengal turbulent due to clear low pressure, Sgnal No 03 at Payra Port     |     
  • Govt puts rural Bangladesh at heart of development agenda     |     
  • BNP celebrates its 48th founding anniversary Tuesday     |     
  • Dengue situation worsens in Pirojpur     |     
  • Hundreds feared stuck in hydropower tunnels in Nepal and Tibet     |     

ঢাবি’র অধ্যাপক অহিদুজ্জামানসহ ৩ জন শিক্ষকের সাময়িক বহিষ্কারের প্রতিবাদ

ক্যাম্পাস 2026-09-01, 7:13pm

dhaka-university-logo-b5dafd5ca3203594b659927629fe18551788268415.jpg

Dhaka University Logo



জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মশিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটুকে সাময়িক বরখাস্ত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, প্রগতিশীল চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন গুরুতর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও একাডেমিক পরিবেশ সম্পর্কে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়।

আমরা জানতে পেরেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত কমিটিতে অভিযুক্তের প্রতিনিধি ও অভিযুক্ত শিক্ষকের জেরা করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বারবার অধ্যাপক ড এম অহিদুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. মো: মাহবুবুর রহমান লিটু লিখিত আবেদন করার পরেও সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তের প্রতিনিধির স্বাক্ষর ব্যতিরেকে সিন্ডিকেটে প্রতিবেদন পেশ করা অত্যন্ত দু:খজনক এবং ন্যায় বিচারের পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি। কোনো ধরনের পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক প্রতিহিংসা কিংবা ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কোনো শিক্ষককে প্রশাসনিক ক্ষমতার জোরে নত করা, ভিন্নমতের কারণে হয়রানির মুখে ফেলা কিংবা শাস্তির ভয় দেখিয়ে তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ করার কোনো প্রচেষ্টাই মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জ্ঞানচর্চা করবেন, প্রশ্ন করবেন, মত প্রকাশ করবেন এবং অন্যায়ের সমালোচনা করবেন—এটাই একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। মতপার্থক্য থাকলে তার সমাধান হতে হবে যুক্তি, আলোচনা, সহনশীলতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে; প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।

আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বে অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করে বিষয়টি ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পুনঃপর্যালোচনার সুযোগ দেয়া হোক। বুদ্ধিজীবী নিধন নয় বরং মহান স্বাধীনতার মতাদর্শের পক্ষে অবস্থানকারী শিক্ষাবিদগণ তাঁদের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে প্রশাসনিক হয়রানি কিংবা শাস্তির আশঙ্কায় যেন নীরব হয়ে না পড়েন, সেদিকে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়া জরুরি। - প্রেস বিজ্ঞপ্তি