News update
  • SSC and Equivalent Exams Begin Nationwide     |     
  • US, Iran Signal War Readiness as Talks Hang in Balance     |     
  • Bangladesh, EU Push for FTA, Investment Pact Talks     |     
  • Over 1.14cr workers sent to Middle East in 22 years     |     
  • BNP finalizes 36 nominations for women’s seats in Parliament     |     

হামে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন কারা?

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক স্বাস্থ্য 2026-04-02, 3:00pm

rtytyertyertretwe4-2889e299306adc7b5a021e7a13d464d21775120402.jpg




হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে, তবে টিকা না নেয়া যে কোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। এটি প্রতিরোধযোগ্য হলেও অবহেলা ও টিকাদানের ঘাটতির কারণে এখনও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিদ্যমান।

হাম কিভাবে ছড়ায়?

১. হাঁচি, কাশি ও কথা বলার মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়।

২. শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।

৩. এ ভাইরাস প্রায় ২ ঘণ্টা বাতাসে ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে।

৪. ফুসকুড়ি ওঠার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পরে পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়ায়।

প্রধান লক্ষণসমূহ কি কি?

১. উচ্চ জ্বর

২. সর্দি ও নাক দিয়ে পানি পড়া

৩. কাশি

৪. চোখ লাল হওয়া

বিশেষ লক্ষণ-

১. মুখের ভেতরে সাদা দাগ

২. মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি 

কারা ঝুঁকিপূর্ণ?

১. টিকা না নেয়া শিশু

২. ৫ বছরের কম বয়সী শিশু

৩. অপুষ্টিতে ভোগা শিশু (ভিটামিন এ ঘাটতি)

৪. দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি

৫. ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী

এ রোগের জটিলতাসমুহ কি কি?

১. নিউমোনিয়া (সবচেয়ে গুরুতর)

২. ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা

৩. কানের সংক্রমণ

৪. এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ)

৫. অন্ধত্ব (ভিটামিন এ ঘাটতির কারণে)

হাম কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

১. টিকা হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

২. বাংলাদেশে টিকা প্রধান কর্মসূচীতে (এমএমআর) টিকা দেওয়া হয়।

৩. ১ম ডোজ: ৯ মাস বয়সে

৪. ২য় ডোজ: ১৫ মাস বয়সে

৫. এ টিকা শিশুদের হাম রোগ থেকে ৯৫-৯৯% সুরক্ষা প্রদান করে। 

চিকিৎসা ও করণীয় কি?

১. নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই।

২. জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ/ট্যাবলেট খাওয়ানো যেতে পারে।

৩. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার দ্রুত রোগ উপশমে সহায়ক।

৪. ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট রোগের জটিলতা প্রতিরোধে কাজ করে।

৫. প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক (দ্বিতীয় সংক্রমণে) দেয়া যেতে পারে।

৬. রোগ ছড়ানো রোধে রোগীকে আলাদা রাখা (আইসোলেশন) রাখা আবশ্যক।

অভিভাবকের করণীয় কি?

১. জ্বর ও র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া।

২. অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা।

৩. বিপদচিহ্ন (শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত দুর্বলতা) দেখলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।

সংক্রমণ প্রতিরোধ করনীয় কি?

১. সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা।

২. হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা।

৩. নিয়মিত হাত ধোয়া।

৪. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।

৫. পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন এ গ্রহণ।

হাম একটি মারাত্মক রোগ হলেও সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। টিকাদান ও সচেতনতার মাধ্যমেই এটি নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল সম্ভব

সকলের সম্মিলিত উদ্যোগই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে পারে ।

লেখক: কর্নেল ডা. নাজমুল হুদা খান (অব.) এমফিল, এমপিএইচ

জনস্বাস্থ্য বিষশেষজ্ঞ ও পরিচালক, মেডিকেল সার্ভিসেস, বিআরবি হাসপাতাল