
অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার। ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া
ফুসফুসে জটিলতা ও লিভারে ভাইরাল সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থ অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের চিকিৎসা এখন চলছে ভারতের চেন্নাইয়ে। তবে এই মুহূর্তে তার শরীর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বা বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ধকল নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
চেন্নাইয়ের ভেলোরে খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়ের সঙ্গে থাকা কারিনার মা লোপা কায়সার জানান, বর্তমানে চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য তাকে স্থিতিশীল করা। কারণ কারিনার ফুসফুসে অনেকটা তরল ও কফ জমে গেছে, পাশাপাশি লিভারেও রয়েছে ভাইরাস সংক্রমণ।
লোপা কায়সার বলেন, ‘চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে স্থিতিশীল করতে হবে। এখনই লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বা বড় অস্ত্রোপচার করার মতো শারীরিক সক্ষমতা তার নেই।’
বাংলাদেশ থেকে ভারতে নেওয়ার পুরো যাত্রাটাই কারিনার জন্য ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার মা জানান, যাত্রাপথের ধকলের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কারিনার অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন আরও বেড়ে যায়। বাংলাদেশে ৬০ শতাংশ অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হলেও চেন্নাইয়ে পৌঁছে তা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের সময় হঠাৎ করেই কারিনার রক্তচাপ কমে গিয়েছিল। পরে দ্রুত ওষুধ প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন চিকিৎসকরা।
বর্তমানে চেন্নাইয়ে কারিনার সঙ্গে আছেন তার মা ও দুই ভাই। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিনার ছোট ভাই সাদাত হামিদের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে তার মিল রয়েছে। ভবিষ্যতে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে ছোট ভাইয়ের লিভারই উপযুক্ত হতে পারে বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সিএমসি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাজের প্রশংসা করে লোপা কায়সার বলেন, ‘চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’
গত সোমবার রাত ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাই নেওয়া হয় কারিনাকে। এর আগে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে লিভারের জটিলতা নিয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। গত শুক্রবার অবস্থার অবনতি হলে প্রচণ্ড জ্বর ও শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
পরিবারের বরাতে জানা গেছে, কারিনা হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজেও নিয়মিত হচ্ছিলেন তিনি। তার পরিচিত কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।