
১৭৩টি গল্প থেকে কয়েক ধাপের বাছাই ও দুই দফা পিচিং শেষে চূড়ান্ত হয়েছে পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রকল্প। অ্যাডফা শর্ট ফেস্টের প্রথম আসরে নির্বাচিত এই পাঁচ গল্প নিয়ে এবার শুরু হচ্ছে সিনেমা নির্মাণের কাজ। নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর জন্য মোট ২৫ লাখ টাকার প্রযোজনা তহবিল দিচ্ছে আসেন। পাশাপাশি গল্প ও চিত্রনাট্য উন্নয়ন থেকে শুরু করে নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেবে অ্যাডফা।
অ্যাডফা ও আসেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের প্রথম আসরে নির্বাচিত পাঁচ নির্মাতা হলেন নাসের হাসিব সিদ্দিকী, তাঁর প্রকল্প ‘দ্য নট’; আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ, তাঁর প্রকল্প ‘পাতার নিশ্বাস’; মুজিবুর রহমান খান (কাইফি), তাঁর প্রকল্প ‘কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস’; মো. মনিরুজ্জামান, তাঁর প্রকল্প ‘দৌড়’; এবং সিয়াম তালুকদার, তাঁর প্রকল্প ‘পারুল’। নির্বাচিত নির্মাতাদের অভিনন্দন জানিয়েছে আয়োজক দুই প্রতিষ্ঠান।
প্রথম আসরে মোট ১৭৩টি প্রকল্প জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাইয়ে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে ১০০টি প্রকল্প। পরে বিচারকদের মূল্যায়নে ২৫টি প্রকল্প জায়গা পায় প্রথম দফার পিচিংয়ে। সেখান থেকে আটটি প্রকল্পকে আমন্ত্রণ জানানো হয় চূড়ান্ত পর্বে। দ্বিতীয় দফার বিস্তারিত উপস্থাপনা ও আলোচনার পর পাঁচটি প্রকল্প চূড়ান্ত করেন নির্মাতা আদনান আল রাজীব, নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন এবং চিত্রগ্রাহক কামরুল হাসান খসরু।
তবে পাঁচটি প্রকল্প নির্বাচনই এই আয়োজনের শেষ নয়, বরং এখান থেকেই শুরু হচ্ছে নির্মাণের মূল পর্ব। নির্বাচিত নির্মাতারা অ্যাডফার নির্ধারিত পরামর্শকদের সঙ্গে কাজ করে নিজেদের গল্প ও চিত্রনাট্য আরও সমৃদ্ধ করবেন। এরপর চিত্রনাট্য, দৃশ্যপরিকল্পনা, দৃশ্যায়নের ধরন, শিল্পনির্দেশনা, অভিনয়শিল্পী নির্বাচন ও নির্মাণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে চলচ্চিত্রগুলোর শুটিংয়ে যাবেন তাঁরা।
পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য মোট ২৫ লাখ টাকার তহবিল দিচ্ছে আসেন। অন্যদিকে, গল্পের বিকাশ থেকে শুরু করে চিত্রনাট্য তৈরি ও চলচ্চিত্র নির্মাণ পর্যন্ত সৃজনশীল দিকনির্দেশনা এবং প্রযোজনাসংক্রান্ত সহায়তা দেবে অ্যাডফা।
আয়োজকদের ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল কয়েকটি গল্প নির্বাচন করা নয়, বরং নতুন নির্মাতাদের ভালো ভাবনাকে যথাযথ বিকাশ, পরামর্শ ও নির্মাণ সহায়তার মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
অ্যাডফার পক্ষ থেকে বলা হয়, “এই আয়োজন শুধু পাঁচটি গল্প নির্বাচন করার জন্য নয়। আমরা এমন একটি প্রক্রিয়া তৈরি করতে চেয়েছি, যেখানে একটি ভালো ভাবনা যথাযথ বিকাশ, পরামর্শ ও নির্মাণ সহায়তার মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র হয়ে উঠতে পারে। ১৭৩টি গল্প থেকে পাঁচটি গল্প নির্বাচন করা হয়েছে। এখন শুরু হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, সেই গল্পগুলোকে সিনেমায় রূপ দেওয়া।”