News update
  • Revenue Gap, Banking Crisis Threaten FY27 Budget: Experts     |     
  • Higher food costs drive Bangladesh inflation to 9.42% in May: BBS     |     
  • Ad-din Hospital to Pay Tk80 Lakh to Each Family     |     
  • Death Sentence in Ramisa Murder Case     |     
  • Govt Drafts New Model for $1tn Economy by 2034     |     

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার পর কিউবার অর্থনীতি কী টিকে থাকবে?

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-01-24, 7:23am

bhenejuyyelaa-0e9d5ca065d7012522333794d2aa1eb71769217821.jpg




ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে কিউবার ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর থেকেই কিউবায় বিদ্যুৎ ও পানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।

কিউবা তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সিংহভাগই ভেনেজুয়েলা থেকে ভর্তুকি মূল্যে পেয়ে আসত। এর বিনিময়ে কিউবা হাজার হাজার ডাক্তার ও শিক্ষক পাঠাত ভেনেজুয়েলায়। গত ১১ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ভেনেজুয়েলা আর কিউবাকে কোনো তেল বা অর্থ সরবরাহ করবে না। কিউবা বর্তমানে তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের অর্ধেকও উৎপাদন করতে পারছে না। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে দিনে ১২ ঘণ্টার বেশি ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাভানার বাসিন্দারা এরই মধ্যে জীবনযাত্রার সংকটে পড়েছেন। ২৮ বছর বয়সী ওয়েব ডিজাইনার এলেনা গার্সিয়া জানান, এক সপ্তাহ ধরে তাদের এলাকায় পানি সরবরাহ নেই। মানুষের মাঝে অনিশ্চয়তা এতটাই বেড়েছে যে, অনেকেই দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা করছেন।

হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমান্ডা টেরেরো বলেন, মানুষ কোনো স্বস্তি পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ, পানি বা খাবার নেই—এমন অবস্থায় অর্থনৈতিক সংকট থেকে যেকোনো সময় বড় ধরনের গণবিক্ষোভ শুরু হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসন কিউবার ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথমে সরকার পতনের ইঙ্গিত দিলেও সম্প্রতি ‘স্থিতিশীলতা’র ওপর জোর দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কিউবায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ফ্লোরিডা উপকূলে অভিবাসীদের ঢল নামতে পারে, যা ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

ট্রাম্প নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কিউবার অর্থনীতি পতনের দ্বারপ্রান্তে এবং তিনি কিউবাকে ‘দেরি হওয়ার আগেই একটি চুক্তি’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কিউবান সরকার এই চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে রাজি নয়। প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল জানিয়েছেন, তার দেশ ‘রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত’ আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিবর্তন চাইছেন, আবার কেউ কেউ সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে।

ভেনেজুয়েলার সমর্থন হারিয়ে কিউবা এখন ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি সংকটের এই দ্বিমুখী চাপে কিউবা কতদিন টিকে থাকতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।