News update
  • Gaza Ceasefire Not Enough as Children Continue to Die     |     
  • Bangladesh Sets Guinness Record With 54 Flags Aloft     |     
  • Gambia Tells UN Court Myanmar Turned Rohingya Lives Hell     |     
  • U.S. Embassy Dhaka Welcomes Ambassador-Designate Brent T. Christensen     |     
  • Survey Shows Tight Race Between BNP and Jamaat-e-Islami     |     

হুমকির পর হুমকি, ইরানে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প?

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-01-14, 7:39am

861118dada426ea23a165d728bb9585bbf64eb0bde4421a9-7ffa3e431ceac897bb31a10eaa6e73e51768354768.jpg




ইরান চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে আরও কঠোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ট্রাম্প ও তার জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তেহরানে সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পগুলো বিবেচনা করছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

গত কয়েক দিন ধরেই ট্রাম্প ইরানে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি বলেছেন, ইরানে যেকোনো সময় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

গত কয়েক দিনে ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব বিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত মাসের শেষের দিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১ হাজার ৮৪৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘সহায়তা আসছে’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান– আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে। এমআইজিএ (মেক ইরান গ্রেট এগেইন)!!!

ট্রাম্পের এমন বার্তার পর নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। তবে তিনি ইরান বিষয়ে কতদূর যেতে প্রস্তুত, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ‘হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ’ করতে বলার পাশাপাশি ‘সাহায্য আসছে’ বলে তিনি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ইরানে সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচ্য লক্ষ্য করে বিমান হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। যেটি তিনি গত জুনেই একবার করেছিলেন। এছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এছাড়ও অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে রয়েছে সাইবার হামলা, অথবা বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারকারী ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামরা। এ ধরনের হামলা হলে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপেরও ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১২ জানুয়ারে) ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে, তবে ইরানের সঙ্গে ‘ব্যবসা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াশিংটনের কাছে কূটনীতিই সব সময় ‘প্রথম পছন্দ’। তবে বিকল্প হিসেবে সামরিক হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময় সব ধরনের বিকল্প হাতে রাখতে পারদর্শী। কমান্ডার ইন চিফের (ট্রাম্প) সামনে থাকা অনেক বিকল্পের মধ্যে একটি হতে পারে বিমান হামলা।

ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিতে পারে-এ নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা থাকলেও সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তিনি ইরানে কোনো না কোনো ধরনের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।