
যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলে ইরানকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনাকে তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি ‘নির্বোধ ও বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর দিকে অন্তত চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ বা আত্মঘাতী ড্রোন ছুড়েছে।
তিনি বলেন, ‘ড্রোনগুলোর একটি বড় ও অত্যন্ত মূল্যবান পণ্যবাহী জাহাজের ওপরের ডেকে সরাসরি আঘাত হানে। এতে জাহাজটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেটি যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী বাকি তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন।’ তবে ট্রাম্প ঠিক কোন ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন বা হামলাটি কখন ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জন্য ওয়াশিংটন ইরানকে দায়ী করছে। ওই হামলার পর পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজ এবং সেখানে অবস্থানরত হাজারো নাবিককে সরিয়ে নিতে জাতিসংঘের চলমান অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
তবে মার্কিন ওই কর্মকর্তা হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেননি। অন্যদিকে, ইরানও এখন পর্যন্ত এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, একটি পণ্যবাহী জাহাজের ডান পাশে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা বস্তু আঘাত হানে। এতে জাহাজটির চালকের কক্ষ বা ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পারস্য উপসাগরীয় সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, তাদের নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া হবে না এবং এসব জাহাজ কোনো বিমা বা সংশ্লিষ্ট দায়-দায়িত্বের আওতায় থাকবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি আরও জানায়, অনুমোদনহীন রুট ব্যবহার করে চলাচলের সব ধরনের দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিক, অপারেটর এবং কমান্ডারের ওপর বর্তাবে।