
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রস্তাবটি পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা।
এই মুহূর্তে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরমে রয়েছে। একদিকে ইরান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হুমকি পাল্টা হুমকি অব্যাহত রেখেছে। নতুন করে যেকোনো সময় সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর খবর সামনে এলো।
এদিকে আজ শুক্রবার (১ মে) ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেই বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে, কিন্তু হুমকির মুখে চাপিয়ে দেয়া কোনো নীতি ‘চাপিয়ে দেয়া’ মেনে নেবে না।
বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এজেই বলেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কখনোই আলোচনা থেকে পিছিয়ে আসেনি... কিন্তু আমরা অবশ্যই কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া মেনে নিই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই যুদ্ধকে স্বাগত জানাই না; আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা এর ধারাবাহিকতাও চাই না।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ‘যুদ্ধ এড়াতে বা এর ধারাবাহিকতা রোধ করতে এই বিদ্বেষপূর্ণ শত্রুর মোকাবিলায় ইরান তার নীতি ও মূল্যবোধ পরিত্যাগ করতে একেবারেই ইচ্ছুক নয়।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধের পর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির আবহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এক দফা আলোচনা করেছে। এরপর থেকে আলোচনা থমকে গেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী মূলত বন্ধ রেখেছে এবং এই জলপথ দিয়ে কেবল অল্প কিছু জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দিচ্ছে।
প্রায় পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতের পর গত মাসের ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর গত ১১ ও ১২ এপ্রিল নতুন করে আলোচনা হলেও ইতিবাচক কোনো ফল আসেনি। ইরান নতুন করে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানালেও গত ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বাড়ান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ইরান বারবার বলছে, হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়। চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দেয় তেহরান।
প্রস্তাবে যুদ্ধাবসানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয় এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।
তবে ইরানের দেয়া নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে এবং ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সমাধান করতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তি হবে না। ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধও অব্যাহত থাকবে।
আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার আশায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে বলে জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনার খবর সামনে আসে। এই খবর পুরো অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়েছে।