News update
  • Nation Votes Tomorrow in 13th Poll, Referendum     |     
  • Key in your hands, use it wisely: Prof Yunus tells voters     |     
  • Yunus Urges Voters to Shape a ‘New Bangladesh’     |     
  • Bangladesh Polls: Campaign Ends as Voters Weigh Pledges     |     
  • Bangladesh Heads to First Gen Z-Driven Competitive Poll     |     

শেখ হাসিনার অবিশ্বাস্য দেশবিরোধিতা ও মিথ্যাচারিতা

মতামত 2026-02-12, 1:12am

zainul-abedin-f8d5668efb2a284a28f3aac23b398ef61770837164.jpeg

Zainul Abedin



মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন  

শেখ হাসিনার বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকা নতুন কিছু নয়। শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের মৃতুর পর ভারতের পরামর্শে শেখ হাসিনার ছেলেমেয়ে ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর থেকেই মূলত  একটি গোয়ন্দো সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্তাবধানে লালিত ও পরিচালিত তাদের পরিবারের সব সদস্যই ভারতের অনুগত হয়ে যায়। এ কারণে শেখ হাসিনার প্রতিটি কাজই ভারতের নীল-নকশা তথা স্বার্থ মোতাবেক পরিচালিত ও বাস্তবায়িত্ব হয়, যেগুলো বাংলাদেশের স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

১৯৯৬ সনের ২৩ জুন শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হবার পর গঙ্গা পানিচুক্তির মাধ্যমে ভারতের স্বার্থে বাংলাদেশের কেমন ক্ষতি করেছেন, তা সবারই জানা। (উল্লেখ্য পলাশীর যুদ্ধও ২৩ জুন সংঘঠিত হয়, যার মাধ্যম বাংলায় সুবা বাংলা বাংলা চিরতরে হারিয়ে যায়) একই বছর ১২ ডিসেম্বর ভারতের সাথে গঙ্গা পানি চুক্তি স্বাক্ষর করে। গঙ্গার প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ আর কখনো আমরা ফেরত পাব কীনা, তা কেবল আল্লাহই জানেন) ।

শেখ হাসিনার পরবর্তী দেশবিরোধি চুক্তি ছিল আরো জঘন্য। ১৯৯৭ সনে ২ ডিসেম্বর ভারতের প্রণব মুখার্জির প্ররোচণায় সান্টু লারমার সাথে তথাকথিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি (Chittagong Hill Tracts Peace Agreement)। প্রণব মুখার্জি শেখ হাসিনাকে এমন লোভ দেখিয়েছিলনে যে, এই চুক্তি করা হলে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাইয়ে দিতে ভারত তদবির করবে। শেখ হাসিনা প্রণব মুখার্জিকে দাদা ডাকতেন। তিনিই ছিলেন ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনার মরুব্বি তথা অভিভাবক। কল্পিত গাধার মুখে মুলা ঝুলানোর মতো। শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কার পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে ভারত তাকে ইচ্ছে মতো ব্যবহার করেছে। তারই ফলশুতি ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি। নোবেল পুরস্কার লাভের লোভ দেখিয়ে ভারত সারা বিশ্বময় লবিষ্ট নিয়োগ করে বাংলাদেশের হাজার ডলার খরচে নামে। নোবেল পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং দেশপ্রেমিক জনগণের তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেখ হাসিনা প্রণব মুখার্জির ফাঁদে পা দিয়ে দেশের চরম সর্বনাশ করে, যার খেসারত জাতি আজো দিচ্ছে।

উল্লেখ্যে, শান্তিচুক্তি হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতভুক্ত করার মহা পরিকল্পনা। সান্টু লারমার বড়ভাই মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার ৬১ দিন (দুই মাস একদিন) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরত আসার একমাস পাঁচ দিন পর ১৯৭২ সনের ১৫ ফেব্রুয়ারী শেখ মুজিবের কাছে গণভবনে (রমনা পার্কের পূর্বপাশে বর্তমান অতিথি শালা সুগন্ধা) গিয়ে পার্বত্য চট্টগামের আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে চারদফা দাবিনামা পেশ করেন। দাঁড়ানো অবস্থায় দাবিনামার ওপর চোখ বুলিয়ে ক্ষুব্ধ শেখ মুজিব লারমাকে বসতেও বলেন নি। তার কথিত দাবিনামা তার দিকেই ছুঁড়ে মারেন। সম্পূর্ণ ভারতের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় পরের বছর (১৯৭৩) মার্চ মাসে প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক মানবন্দ্রেু নারায়ন লারমা জনসংহতি সমিতি নামক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন গঠনের ঘোষণা দেন, যা অচিরেই সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করে। এরা ভারত থেকে অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সার্বিক সাহায্য পায়। (বিস্তারিত ইতিহাস জানার জন্য আমার লেখা বই ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বরূপ সন্ধান’ দেখুন)। অথচ ভারত তার দেশের উপাজিতদের সামান্যতম অধিকার না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধ গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, আর শেখ হাসিনা তার পিতার নীতি থেকে সরে এসে ভারতের নির্দেশ অনুসরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের হাতে তুলে দেয়ার পথ তৈরি করেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামের সব উপজাতিই মিয়ারমার, ভারত, থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এদের কেউই বাংলাদেশের ভূমিপুত্র নয়।

শেখ হাসিনার বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকা থেকে আর ফিরে আসেননি। তিনি সব সময় বাংলাদেশের স্বার্থ ও অস্তিত্বকে বিকিয়ে দিয়েই ভারতের পোষ্য থাকাকেই তার ক্ষমতায় থাকার চাবিকাঠি তথা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

মানব ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য দেশ বিরোধি শেখ হাসিনা এখনো ভারতে বসে বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের মধ্যে বিভাজন-বিরোধ তথা অনৈক্য সৃষ্টি করতে সচেষ্ট যা ভারতেরই অন্যতম এজেন্ডা। বাংলাদেশের জনগণ এক অর্থাৎ ঐক্যবদ্ধ থাকলে ভারত কখনোই বাংলাদেশে তার প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না। আর বাংলাদেশীদের একতা বিঘিœত হলে বাংলাদেশ ভারতের হাতে চলে যাবে। ২৬ জানুয়ারী (২০২৬)  ভারতীয় ২৪ অনলাইন চ্যানেলে শেখ হাসিনার যে সাক্ষাতকার দিয়েছেন তা প্রমাণ করে তাতে শেখ হাসিনা তার নিজের ক্ষমতায় ফিরে আসা এবং দেশকে ভারতের কবলে রাখার বাসনাই প্রকাশ করেছেন।   

তাই এই সাক্ষাতকারে শেখ হাসিনা বিএনপি’র বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বলেছেন চরমপন্থী শক্তির সাথে বিএনপি’র আপস করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই চরমপন্থী কারা? এটা ২০০৫ সালের ঘটনা। ২০০৫ সালের ১৭ সেস্টেম্বর বাংলাদেশের ৬৩টি জেলায় ৩০০ জায়গায় একই সময় বোমা হামলা চালনো হয়। এতে বিচারকসহ দুইজন নিহত এবং ৫০ জনের মতো মানুষ আহত হয়। এই হামলায় প্রায় ৫০০ হাতবোমা ব্যবহার করা হয়।  

বেগম খালদো জিয়ার সরকার দ্রুততার সাথে অভিযান চালিয়ে জেএমবি’র প্রধান সায়েখ আবদুর রহমান ও ছিদ্দকল  ইসলাম (বাংলা ভাই)’কে ২০০৬ সনের প্রথমদিকে গ্রেফতার করে। বিচারের রায়ে তাদেরকে ফাঁসি হয় এবং তা কার্যকর করা হয়। 

বাংলাভাই (ছিদ্দিকুল ইসলাম) এবং তার গুরু মুফতি আবদুর রহমান জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) রাজশাহীর নওগাঁ-নাটোর অঞ্চলে ইসলামী অনুশাসনের পক্ষে তৎপরতা শুরু করলে শেখ হাসিনারা তাদেরকে বিএনপি-সৃষ্ট মৌলবাদী সন্ত্রাসী সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত করে। পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয় ‘জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ’ সম্পূর্ণভাবে প্রতিবেশী দশেরে গোয়ন্দো সংস্থা সৃষ্ট একটি সন্ত্রাসী সংগঠন । অচিরেই এই সত্যতাই বাস্তবে প্রমাণিত হয়। শায়েখ আবদুর রহমান ছিলেন আওয়ামী লীগরে এমপি মির্জা আজমের বোনের জামাই। এরা কেমন নিষ্ঠুর? মির্জা আযম জানতনে বিদেশি গোয়ন্দো সংস্থা জেএমবিকে কী কাজে ব্যবহার করবে। শেখ হাসিনা, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আযম গংরা ভারতের জন্য যে যেকোন জঘন্য দুষ্কর্ম করতে পারেন তা ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য, ভারতে আশ্রয় নিয়ে ভারতে থেকেই তিনি রাজনীতি শুরু করেছেন। তিনি সেই দেশে বসেই বক্তৃতা কীভাবে করতে হয়, বক্তৃতার ধরন, কী কৌশল ইত্যাদির প্রশিক্ষণও নিয়েছেন গোয়ন্দো সংস্থার তত্তাবধানে। শেখ হাসিনা ঐতিহাসিকভাবেই দেশপ্রেমিক হতে পারেননি এবং বাংলাদেশের চেয়ে তিনি মনেপ্রাণে ভারতের প্রতি বেশি অনুগত। তার দুই সন্তান এবং তার ছোটবোন রেহানা সবারই আশ্রয়স্থল ভারত। তাই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বার্থ, স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরীদের বিপক্ষে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। তাই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার প্র্তিবেশি দেশ কর্তৃক দেয়া দায়িত্বের অংশ বিশেষ।

ওই সাক্ষাতকারে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনমতকে বিভ্রান্ত করার এবং ভারতীয় দোসরদের পক্ষে ভোট টানার অশুভ উদ্দেশ্যে আরেকটি মিথ্যাচার করেছেন। তিনি তারেক রহমানকে সরকারী তহবিল তছরুপের পুরানো কথা আবার উল্লেখ করেছেন। অথচ বিএনপি’র চোয়রম্যান তারেক রহমান তার পুরো জীবনে এখন পর্যন্ত কোন সরকারী দপ্তরের দায়িত্বেই ছিলেন না। সুতরাং সরকারী অর্থ তছরুপের কিংবা অপব্যয় করার কোন সুযোগই তার ছিল না। শেখ হাসিনা তার স্বৈরশাসনকালে তন্ন তন্ন করে খোঁজ নিয়েও তারেক রহমানের কোন অপকর্র্মের প্রমাণ পাননি। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচারের করার ভূয়া অজুহাতের অভিযোগ করেও কোন প্রমাণ হাজির করতে পারেন নি।  

এমনকি আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত জনসভায় গ্রেনেড হামলার সাথে তারেক রহমান জড়িত ছিলেন এমন বানানো অভিযোগের বিরুদ্ধ কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শেখ হাসিনার দালাল এসবি’র অফিসার অবসরপ্রাপ্ত খন্দকার আবদুল কাহার আখন্দকে পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে পুনরায় এসবি’তে আনা হয়। তিনিও কোন অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেন নি। তথাপি ভুয়া অভিযোগে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়ার জন্য দলীয় ক্যাডারদের বিচারকের আসনে বসিয়ে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক মামলা দায়ের করা হয়। বাদি, সাক্ষী, উকিল, বিচারক সবাই দলীয় ক্যাডার। সবাই শেখ হাসিনার অনুগত ও সুবিধাভোগী। এই ধরনের পাতানো মামলা ছিল বিচারের নামে অবিচার, তথা স্বেচ্ছাচারিতা।  শেখ হাসিনার সময়ে  এই ধরনের মামলা ছিল নিত্যনৈমিত্রিক ব্যাপার। 

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার দুঃশাসনের সময়  (২০০৯ থেকে ২০২৪)  তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৮৪টি মামলা দায়ের করা হয়। সারা বিশ্বে এমন মিথ্যাচারিতার নজির আর নেই। বিশ্বে এমন কোন রাজনৈতিক নেতার নাম পাওয়া যায় নি, যার বিরুদ্ধে এতো সংখ্যক মামলা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় কখনোই কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে তারকে রহমান জড়িত ছিলেন না, কিংবা তেমন অপকর্মকে তিনি সমর্থনও করেন না।

অনদিকে জাতিসংঘসহ সারা দুনিয়ার সচেতন মানুষ হাসিনা-আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী দুষ্কর্মের কাহিনী জানেন। নানক-মীর্জা আজমের মতো সন্ত্রাসের ঠিকাদাররা ভারতের হয়েই বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসে। শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারানোর পরপরই কিংবা তার কিছু আগে তারা আবার ভারতের ইঙ্গিতে ভারতে পালিয়ে যায়। এরা ভারতের ইঙ্গিতেই চলে এবং এদের মূল দায়িত্বই হলো ভারতের নির্দেশে বাংলাদেশের ভিতরে দুষ্কর্ম চালনো এবং বাংলাদেশকে ভারতভুক্তকরণে সহযোগিতা করা । তারেক রহমানরা কোথাও পালাননি। শেখ হাসিনার হাতে অন্যায়ভাবে নির্যাতিত হয়ে তারা পালিয়ে যাবার কথা ভাবেন নি। বেগম জিয়া প্রকাশ্যে বলেছেন মরতে হলে এদশেই মরব। অন্যদিকে তারেক রহমান কেমন দেশপ্রেমিক তা তার আব্বা মরহুম জিয়াউর রহমান এবং আম্মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বার বার বলেছেন: বাংলাদেশের বাইরে আমাদের কোন প্রভু নেই, বন্ধু আছে। বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিমান বন্দরে নেমেও একই কথার পুনরাবৃর্তি করেছেন, বাংলাদেশের বাইরে আমাদের কোন প্রভু নেই, যা মরহুমা শাহনাজ রহমতুল্লার সেই অমর গানের মতোই ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’। তারেক রহমান বলতে চেয়েছেন বিএনপি’র সবকিছুই বাংলাদেশিেন্দ্রক। বাংলাদেশের চৌহদ্দির বাইরে বিএনপি’র কিছ্ইু নেই। বাংলাদেশ ছাড়া বিএনপি অন্যকিছু বুঝে না। মরহুমা শাহনাজ রহমতুল্লার সেই অমর গান: প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ; জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ। এই গানটি বহুদিন থেকেই বিএনপি’র দলীয় সংগীত বিশেষ, যাতে বিএনপির স্বদেশপ্রেম যথার্থরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। 

পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন শেখ হাসিনা জি-২৪ অনলাইনে তারেক রহমান সম্পর্কে যেসব মিথ্যাচার করেছেন, তা তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কেবল জি-২৪ অনলাইনে শেখ হাসিনার মিথ্যাচারিতাই নয় তার রাজনৈতিক জীবনের মূল টার্গেটই ছিল জিয়া পরিবার, যা বাংলাদেশী জনগণের প্রেরণা ও অস্তিত্বের প্রতিক।

তারেক রহমানের দেশপ্রেম, দেশের জন্য চরম নির্যাতন ও ভোগান্তি, সর্বোপরি দেশের স্বার্থ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখন্ডতা, ও আপসহীন  অবস্থান তাকে জননন্দিত করেছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ জনগণ এককভাবে বিএনপি তথা তারেক রহমানের পক্ষে । অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের নামজাদা সংবাদ মাধ্যম (যেমন ওয়াশিংটন পোষ্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফ ইত্যাদি পত্রিকায় ইতোমধ্যেই তারেক রহমানের বিপুল জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে আসন্ন নির্বাচনে তার দলের  বিজয়ের সম্ভাবনার কথা বলেছে। এমনকি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করেছে। আবার তারেক রহমানের প্রতিপক্ষ দলগুলোর নেতৃবৃন্দের অর্বাচিন বক্তব্য ও মন্তবের কারণে তার (তারেক রহমানের)  জনপ্রিয়তা প্রতিদিনই বাড়ছে, যা বাংলাদেশের অস্তিত্ববিরোধী শক্তিকে শঙ্কিত করেছে। এই নির্বাচনে যেকোন মূল্যে একান্তভাবেই ভারতপন্থী দলকে ক্ষমতায় আনতে ভারত মরিয়া।

সন্ত্রাসী ও খুনি-লুটেরাদের প্রমোটর ও ভারতের স্বার্থবাহী শেখ হাসিনা জননন্দিত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচারণাই চালাচ্ছে না, বরং তারেক রহমানের মতো নিরেট দেশপ্রেমিক  যেন কোনভাবেই ক্ষমতায় আসতে না পারে সেই উদ্দেশ্যে ভারতের সরাসরি নির্দেশনায় নির্বাচন বানচালসহ নির্বাচন পরবর্তী সহিংস হাঙ্গামা চালানোর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। কারণ তারেক রহমান মানেই বেগম খালেদ জিয়া-শহীদ জিয়া। তারেক রহমান মানেই বাংলাদেশ ভারতের হাতের বাইরে থাকার প্রতয়; বাংলাদেশের স্বার্থ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব শতভাগ সুনিশ্চিত হওয়া, যা ভারতের কাম্য নয়। দেশবাসীর প্রত্যাশা তারেক রহমান বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের জনগণের সমস্যা সমাধানে এবং দেশের স্বার্থ-স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণে আপসহীন থাকবেন।

(লেখক: মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও গবেষক। ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ঢাকা, বাংলাদেশ)