
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য এই ছোট্ট সেফটি পিনের নিচে থাকা ছোট্ট গোল ছিদ্রটি আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হয়তো অনেকেই জানেন না। সাধারণভাবে সেফটি পিনকে একটি ছোট ধাতব পিন হিসেবে দেখা হয় যা শাড়ি, কাপড় কিংবা অন্যান্য জিনিসপত্র ঠিকঠাকভাবে ধরে রাখে। কিন্তু এর নীচের গোলাকার অংশ বা ‘স্প্রিং’ এবং ছোট্ট গোল ছিদ্রের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে পিনের কার্যকারিতার অন্যতম প্রধান রহস্য।
সেফটি পিনের ইতিহাস প্রাচীন। ইউরোপের ব্রোঞ্জ যুগে এর প্রাথমিক রূপ ‘ফিবুলা’ নামে পরিচিত ছিল। আধুনিক সেফটি পিনের উদ্ভাবক ওয়াল্টার হান্ট ১৮৪৯ সালে এটি তৈরি করেন একটি বাঁকা তারের মাধ্যমে। যদিও তিনি নিজে এর মূল্য বুঝতে পারেননি এবং পেটেন্ট বিক্রি করে দেন মাত্র ৪০০ ডলারে, পরে এর ব্যবহার থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জিত হয়।
সেফটি পিনের নিচের গোলাকার অংশটি আসলে একটি স্প্রিং। এটি শুধু ডিজাইনের অংশ নয়, বরং পিনে ‘টেনশন’ তৈরি করে, যার ফলে সূচালো মাথাটি শক্তভাবে নিরাপদ স্থানে আটকে থাকে। এই টেনশন না থাকলে পিন বারবার খুলে যেত, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল। ছোট্ট গোল ছিদ্র বা স্প্রিং অংশটি পিনটিকে যথাযথ স্থিতি প্রদান করে এবং ব্যবহারকারীদের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
অপর অংশ হলো হেড বা গার্ড। এটি পিনের সূচালো অংশকে নিরাপদে ঢেকে রাখে, যাতে ব্যবহারকারীরা আঘাত না পান।
সুতরাং, সেফটি পিনের নিচে ছোট্ট গোল ছিদ্র বা স্প্রিং শুধুমাত্র সাজসজ্জার জন্য নয়, এটি পিনটিকে নিরাপদ, কার্যকর এবং ব্যবহার উপযোগী করে তোলে।আজকের দিনে এই ক্ষুদ্র অথচ গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের পিছনে লুকানো ইতিহাস ও বিজ্ঞানের কথাটি আমাদের সচেতন করে যে, ছোট্ট জিনিসও হতে পারে জীবনের বড়ো নিরাপত্তা উপাদান।