
বৈরী আবহাওয়াকেও যেন হার মানিয়েছে ইতিহাস জানার আগ্রহ। সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিলেন দর্শনার্থীরা। উদ্বোধনের পর দ্বিতীয় দিনের মতো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত জাদুঘরে দেখা গেছে সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। পূর্ণবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রবেশমূল্য।
জাদুঘরের মূল প্রবেশপথের পাশেই জুলাই মেমোরিয়াল। সেখানে খোদাই করা হয়েছে শহীদদের নাম। এর পেছনে আড়াই হাজারেরও বেশি শহীদের স্মরণে নির্মিত প্রতীকী কবরস্থান। রয়েছে শহীদ নাফিজকে বহনকারী রিকশা, সাঁজোয়া যানে ঝুলন্ত আন্দোলনকারী এবং সাইকেল মিছিলে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের প্রতীকী ভাস্কর্য, যা আন্দোলনের স্মৃতিকে জীবন্ত করে তুলেছে।
জাদুঘরের মুল ফটকের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে টর্চার সেল, দেয়ালজুড়ে আলোকচিত্র, বড় পর্দায় প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র, আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, সংরক্ষিত দলিল এবং শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত নানা নিদর্শন। তবে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে আন্দোলনের স্মৃতিবাহী লাল টেলিফোন।
কেউ মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন তথ্যফলক, কেউ দেখছেন ভিডিওচিত্র, আবার কেউ ছবি তুলে স্মরণীয় করে রাখছেন ইতিহাসের এই মুহূর্ত।
দর্শনার্থীরা বলছেন, পাঠ্যবইয়ের বাইরে আন্দোলনের ইতিহাস জানার এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিদিন তিনটি শিফটে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে। আপাতত ধারণক্ষমতা বিবেচনায় দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ জন দর্শনার্থী জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় জাদুঘরের আদলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘরেরও সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতিবার রাখা হতে পারে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এ সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।