
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মতে, এটি চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
স্থানীয় সময় সোমবারের (১০ আগস্ট) ভূমিকম্পে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং আরও ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও হাতে হাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তবে উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে ভবন ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধুলার মেঘ আকাশে উঠতে দেখা যায়। আরেক বাসিন্দা জানান, একটি ভবন ধসে পড়ার শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে তা বোমা বিস্ফোরণের মতো শোনায়।
ভূমিকম্পের কয়েক দিন আগেই দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
রিসারালদা অঞ্চলে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। অঞ্চলটির রাজধানী পেরেইরাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভালে দেল কাউকা অঞ্চলে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন, যাদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি চোকো অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতে সময় লাগছে। সেখানকার কর্মকর্তারা অন্তত ১২ জন নিহত ও ৮৪ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এলাকাটিতে বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
পেরেইরায় বিমানবন্দরের ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়ার ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরে অন্তত ১৫টি ভবন ধসে পড়েছে, যেখানে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
মানিজালেসে শহরের ঐতিহাসিক নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের একটি পাশের টাওয়ারও ধসে পড়ে।
দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরার বিমানবন্দর রয়েছে। প্রকৌশলীরা ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করছেন।
কলম্বিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটিতে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প নিয়মিত হলেও ৬-এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বিরল।
১৯৯৯ সালে আর্মেনিয়া শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, সোমবারের ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি ২১ শতকে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
যুক্তরাষ্ট্র জরুরি আশ্রয়, খাদ্য ও ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ১৫.৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এছাড়া এল সালভাদর, মেক্সিকো, চিলি, ইসরায়েল, ইকুয়েডর ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ কলম্বিয়াকে উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসক, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।