News update
  • PM to visit India when atmosphere turns conducive: Humaiun Kobir     |     
  • PM set to embark on maiden overseas tour with Malaysia visit Sunday     |     
  • Food grain stocks in country exceed 20.6 lakh tons     |     
  • Dhaka, Beijing Likely to Sign 15–17 Agreements     |     
  • Govt Aims for Efficient Spending, More Revenue     |     

উত্তরের যে চার জেলায় বন্যার আভাস

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বিপর্যয় 2026-06-21, 12:48pm

img_20260621_124516-ddbd8a8f7cc6656eb25e4687a01362021782024537.jpg




দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতি ভারি ও উজানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। 

এতে উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন। 

তিনি জানিয়েছেন, ভারি বৃষ্টিপাতে উত্তরের চার জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতি থাকতে পারে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে বন্যার শঙ্কা রয়েছে।

তিস্তার পানি বাড়ছে: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে।

এদিকে গতকাল বিকেল ৩টায় লালমনিরহাটে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ (ডালিয়া) পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগের দিন একই সময়ে সেখানে পানিপ্রবাহ ছিল বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। 

গতকাল সকাল ৯টায় সেখানে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে নদীটির পানি প্রবাহিত হয় বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলার নদীতীরবর্তি নিম্নাঞ্চলের কিছু ফসলের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।

সিলেটে বন্যার শঙ্কা: সিলেটের নিম্নাঞ্চলগুলোয় আকষ্মিক বন্যার শঙ্কার মধ্যে সিলেটে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪১ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত।

এমন বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। আগামী তিন দিন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সিলেটের আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার গতকাল দুপুরে জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৫.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারতের মেঘালয়সহ বিভিন্ন রাজ্যে কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত চলছে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় নদীগুলোর পানি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে থাকলেও আগামী তিন দিন ভারতে ভারি বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। এতে এই সময়ে সিলেটের নদ-নদী বিপৎসীমা অতিক্রমের বড় ঝুঁকি আছে। 

কয়েক দিন ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস

বর্ষার প্রভাবে দেশের চার বিভাগ রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের অনেক জায়গায় ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এ সময় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ ছাড়া দেশে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। 

শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়ার বুলেটিনে এসব তথ্য জানায় আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের অনেক জায়গায় ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই বৃষ্টিপাত আরো অন্তত তিন দিন থাকতে পারে।

১০ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে বজ্রপাতও হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 

একই সঙ্গে অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা-ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।