
চাঁদের পথে যাত্রাকালে ওরায়ন মহাকাশযানের কেবিনের একটি জানালা দিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আছেন নভোচারী ক্রিস্টিনা কখ। ছবি: সংগৃহীত
ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের নভোচারীরা সোমবার (৬ এপ্রিল) চাঁদের অদৃশ্য বা দূরবর্তী পাশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারা পৃথিবী থেকে এমন এক দূরত্বে পৌঁছাবেন, যেখানে এর আগে কোনো মানুষ কখনও যায়নি।
নাসা জানিয়েছে, বুধবার উৎক্ষেপণের পর থেকে মিশনটি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তিনজন মার্কিন নভোচারী ও একজন কানাডীয় নভোচারী নিয়ে গঠিত এই দলটি বর্তমানে চাঁদের অভিকর্ষ বলয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সোমবারের মধ্যেই তারা মানব ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রমের নতুন রেকর্ড গড়বে।
মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, পৃথিবী এখন বেশ ছোট দেখাচ্ছে, আর চাঁদ ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে।
১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর এই প্রথম মানুষ আবার চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। প্রায় ৫৪ বছর পর মানব মহাকাশ অভিযানে এটি নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সফল যাত্রার মাঝেও একটি বিব্রতকর সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওরায়ন মহাকাশযানের টয়লেট ঠিকমতো কাজ করছে না। উৎক্ষেপণের পর থেকেই এটি বারবার বিকল হয়ে পড়েছে। আপাতত নভোচারীদের বিকল্প ইউরিন সংগ্রহ ব্যাগ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। প্রকৌশলীদের ধারণা, বরফ জমে নিষ্কাশন লাইনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
নাসার ওরায়ন কর্মসূচির উপব্যবস্থাপক ডেবি কর্থ বলেন, মহাকাশে টয়লেট ব্যবস্থা সব সময়ই একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, বাথরুম থেকে দুর্গন্ধের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে নভোচারীদের মনোবল বেশ চাঙা রয়েছে। মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানান, মহাকাশ থেকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়েছেন।
নাসা ইতোমধ্যে চাঁদের বিখ্যাত ওরিয়েন্টালে বেসিনের ছবি প্রকাশ করেছে, যেটিকে অনেকেই চাঁদের “গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন” বলে থাকেন। এই বিশাল গহ্বরটি মানুষের চোখে এত স্পষ্টভাবে এই প্রথম ধরা পড়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ওরায়ন মহাকাশযান চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এই মিশনটি ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ নামানোর বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। নাসার লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে সেখানে নভোচারী অবতরণ করানো। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান