
শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে থেকে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করল ইংল্যান্ড। তবে ঠিক আক্রমণে কার্যকর হতে পারছিল না তারা। বিপরীতে, কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দারুণ কিছু আক্রমণে ক্ষণেই ক্ষণেই ইংল্যান্ডের রক্ষণে ভীতি ছড়াল নরওয়ে। চমক দেখিয়ে এগিয়েও গিয়েছিল তারা। তবে প্রত্যাবর্ণের গল্প লিখে শেষটা নিজেদের করে নিল থ্রি-লায়ন্সরা। দলের কাণ্ডারি হয়ে দেখা দিলেন জুড বেলিংহ্যাম। জোড়া গোল করে দলকে নিয়ে গেলেন সেমিফাইনালে।
আজ রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড আর নরওয়ে। দারুণ লড়াই শেষে নরওয়ে স২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড। আর থামল নরওয়ের ঐতিহাসিক যাত্রা। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা। থামতে হলো সেখানেই।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তবে আক্রমণে তেমন ধার দেখা যাচ্ছিল না। সুযোগ কাজে লাগাতে পারছিলেন না হ্যারি কেইনরা। বিপরীতে, কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল আদায়ের সুযোগ খুঁজছিল নরওয়ে।
ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে প্রথম জোড়ালো আক্রমণটি করে নরওয়ে। জুলিয়ান রাইয়ারসনের চমৎকার ক্রস থেকে বক্সের মধ্যে লাফিয়ে উঠে জোড়ালো হেড করেন আর্লিং হলান্ড। তবে বল জালের দিকে যাওয়ার মুহূর্তে তা দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।
পরের মিনিটে অবশ্য আর নরওয়েকে আটকে রাখতে পারেনি তিনি। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের চমৎকার পাস থেকে বক্সের বাম প্রান্ত ধরে ভেতরে ঢুকে বাম পায়ের কোনাকুণি জোড়ালো শটে ওপরের কোণা দিয়ে বল জালে জড়ান আন্দ্রেয়াস শিয়েলদারুপ। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।
ম্যাচের ৪০তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। আলেকজান্ডার সরলথের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে নরওয়ে অধিনায়ক ওডেগার্ড বাম পায়ে জোড়ালো শট নেন। তবে এবারও ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি পিকফোর্ড।
নরওয়ের খুঁশি অবশ্য বেশি সময় স্থায়ী হতে দেয়নি ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধেই ম্যাচে সমতায় ফেরায় তারা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। অ্যান্থনি গর্ডনের অ্যাসিস্ট থেকে বক্সের বাম প্রান্ত ধরে ভেতরে ঢুকে বাম পায়ের চমৎকার প্লেসিং শটে নরওয়ের গোলকিপারকে পরাস্ত করেন বেলিংহ্যাম।
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আবারও নরওয়ের জালে বল জড়িয়েছিলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। তবে উদযাপন করার আগেই অফসাইডের পতাকা উঠান লাইন্সম্যান। ফলে ১-১ গোলে সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরে দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। দ্রুত সেই সুযোগও পেয়ে যায় নরওয়ে। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে নরওয়ের তরবিওর্ন হেগেম বল জালে জড়িয়ে উদযাপন শুরু করে। কিন্তু সেই উদযাপন থামিয়ে রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর সাহায্য নেন। পরে ভিডিও মনিটরে দেখা যায় গোল হওয়ার আগেই ফাউল করেছিলেন হলান্ড। যে কারণে গোল বাতিল করেন রেফারি।
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে গোলবারের বাধায় কপাল পুড়ে নরওয়ের। কর্নার থেকে ফ্রেডরিক আউরসনেসের নিখুঁত ক্রসে বক্সের মধ্যে লাফিয়ে উঠে ক্রিস্টোফার আয়ার হেড করলেও বল গোলবারে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে নরওয়ের আরেকটি আক্রমণ থামিয়ে দিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড। সান্ডার বার্গের পাস থেকে বক্সের বাম প্রান্ত ধরে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ে দারুণ শট নেন আন্তোনিও নুসা। তবে পিকফোর্ড ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ করলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলে ইংল্যান্ড। প্রথমে বুকায়ো সাকার ক্রস থেকে হ্যারি কেইনের নেওয়া বিপজ্জনক হেড এবং মর্গান রজার্সের জোড়ালো শট নরওয়ে গোলরক্ষক আরিয়ান নেলান্দ পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভে ফিরিয়ে দেন।
তবে সেই ফিরতি আক্রমণেই বক্সের ঠিক মাঝখান থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের নিচের বাম কোণে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন জুড বেলিংহ্যাম। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে থ্রি-লায়ন্সরা।