
তোমার লক্ষ্য যত বড় হবে, তোমার জয় ততটাই মহিমান্বিত হবে।’ — কথাটি বলেছিলেন আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলা। তার কথাটি যেনো হৃদয়ে গেঁথে নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমেছিল আফ্রিকারই দেশ কেপ ভার্দে। সামনে প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। কিন্তু সেসব যেনো তাদের মাথায়ই নেই। লক্ষ্য একটাই– ইতিহাস গড়তে হবে।
বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের আটালান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। পুরো ম্যাচ জুড়ে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছে স্পেন। আর সেগুলো নিখুঁতভাবে প্রতিহত করে গেছে কেপ ভার্দে। যেনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো ছবি, এক ফোঁটাও ভুল নেই।
বিশেষ করে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা অসাধারণ কিছু সেভ দিয়ে দলকে রক্ষা করেছেন। লাস্ট ম্যান হিসেবে গোলবার আটকানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। বাঁচিয়েছেন কয়েকটি নিশ্চিত গোল।
ম্যাচটি যারা দেখেছেন, তাদের অনেকেই হয়তো অবাক হয়ে ভেবেছেন এই দলটিই কি না প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। অসাধারণ নৈপূন্যে স্পেনকে রুখে দিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রয়ের মাধ্যমে। এতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে।
পুরো ম্যাচে স্পেন কতটা আক্রমণ করেছে তার প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যান থেকে। পুরো ম্যাচে ৭৪ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২৭টি শট নিয়েছে স্পেন। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৭টি। বিপরীতে, ২৬ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য নেওয়া ৬ শটের মাত্র একটি লক্ষ্যে রেখেছিল কেপ ভার্দে।
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে গোলের জন্য প্রথম শট নেয় স্পেন। বক্সের বাইরে থেকে জোড়ালো শট নিয়েছিলেন পেদ্রি। তবে সেটি আটকে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক।
শেষদিকে একের পর এক আক্রমণ হানে স্পেন। কিন্তু কেপ ভার্দের ডিফেন্স আর গোলরক্ষক যেনো চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান।
ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে গোলের জন্য সবচেয়ে সেরা সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। ডানপ্রান্ত থেকে কুকুরেলার হেড পাস থেকে ফেরান তোরেসের নেওয়া শট আটকে যায় গোলবারে। ফিরতি বলে আবারও হেড নেন মিকেল ওয়ারজাবাল। কিন্তু এবার দারুণ ফিঙ্গারটিপস সেভ দিয়ে দলকে বাঁচান গোলরক্ষক।
ম্যাচের ৪০তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুযোগ তৈরি করেছিল কেপ ভার্দে। তবে নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করতে করতে দেরি করে ফেলে। ততক্ষণে নিজেদের গুছিয়ে নেয় স্পেনের ডিফেন্স।
ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে আবারও কেপ ভার্দেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক। পেদ্রির ডিফেন্স চেরা শট দারুণভাবে আটকে দেন তিনি। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিশ্চিত গোল আটকে দিয়ে আরও একবার স্পেনকে হতাশ করেন ভোজিনহা।
প্রথমার্ধে হতাশ হওয়া স্পেন দ্বিতীয়ার্ধে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। আক্রমণ করতে থাকে আরও বেশি। বিপরীতে, এই অর্ধে কিছুটা লো-ব্লক ডিফেন্সে চলে যায় কেপ ভার্দে। ফলাফল, আফ্রিকার দেশটির রক্ষণে গিয়ে স্পেনের আটকে যাওয়া।
এমন অবস্থায় গোলের জন্য মরিয়া স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকে মাঠে নামান তার ক্লাসের সেরা ছাত্র রামিনে ইয়ামালকে। কিছুক্ষণ পর দানি ওলমো ও নিকো উইলিয়ামসকেও বদলি নামান দে লা ফুয়েন্তে। কিন্তু কিছুতেই ভাঙতে পারেনি কেপ ভার্দের রক্ষণ।