News update
  • 5 killed as car crashes into truck on Faridpur expressway      |     
  • Rawhide traders count losses as tanneries duck blame     |     
  • Iran warns of suspending US talks if Israeli attacks on Lebanon continue     |     
  • Girl missing after crocodile drags her into Bagerhat shrine pond     |     
  • President accepts Minister Dipen Dewan’s resignation     |     

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা নিয়ে এবার নতুন বার্তা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক প্রবাস 2026-01-26, 1:40pm

rty5r46546t54-1e12661921a3ce0596f4ef8be804deb81769413231.jpg




অভিবাসন ভিসা স্থগিতের পর এবার বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আরেক বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এ বার্তায়। সেখান থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশিদেরকে সর্বোচ্চ ৩ মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। 

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এ বার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মা‌র্কিন দূতাবাস।  

এর আগে, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকাতেও যুক্ত করেছে দেশটি।  

‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করে, এ সংক্রান্ত বার্তায় বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবাস। তথ্যগুলো হলো—   

ক। মা‌র্কিন যুক্তরা‌ষ্ট্রের ভিসার জন‌্য অনু‌মো‌দিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে।

খ। ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য হলে কনসুলার কর্মকর্তা আপনাকে pay.gov–এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবে।

গ। ৩০ দিনের মধ্যে বন্ড পরিশোধ করতে হবে। 

ঘ। সর্বোচ্চ ৩ মাস মেয়াদি, একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়া হবে।

ঙ। নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।

চ। দেশে ফিরে আসার পর ভিসার সব শর্ত পূরণ হলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং অর্থ ফেরত দেওয়া হবে (শর্তের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা)।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাড়তি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। মূলত, যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফিরে না আসার হার বেশি, সেসব দেশকেই এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া, ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ, এখন থেকে বাংলাদেশিরা কেবল এই তিন বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। বিমানবন্দর তিনটি হলো— বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। 

এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় আছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডা। তালিকার দেশগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

নতুন এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে। 

উল্লেখ্য, ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা। কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এমন জামানত বা নিশ্চয়তা নিয়ে থাকে; যেন তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলেন।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। কোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে সেটি ভিসা ওভারস্টে বলে গণ্য হয়।

বেশির ভাগ দেশই ভিসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ চায়। কিন্তু ফেরতযোগ্য জামানত দিয়ে দেশে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেনি। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করেছিল, পরে তা আর কার্যকর হয়নি। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।