News update
  • Dhaka-Seoul Ties Set for Strategic Partnership Push: Envoy     |     
  • BSEC vows investor protection as top priority in IPO reform drive     |     
  • Facebook post triggers tension in Shahbagh JCD-DUCSU brawl      |     
  • Grameen Kalyan plans 300 healthcare centres in 64 districts     |     
  • Italy dismisses replacing Iran at the World Cup, as Trump official says     |     

আজহারীর পর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল শায়খ আহমাদুল্লাহ'র, কী বলছেন তিনি

বিবিসি বাংলা ধর্মবিশ্বাস 2026-04-08, 7:06am

ererwewqew-fb1a4f3a870345e42f9bcf8c6e19766d1775610373.jpg




ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর পর আরেকজন বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আহমাদুল্লাহ, যিনি শায়খ আহমাদুল্লাহ নামেই বেশি পরিচিত-তার ভিসাও অস্ট্রেলিয়া বাতিল করেছে, যা নিয়ে বাংলাদেশে ও অস্ট্রেলিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমন্ত্রণে মি. আহমাদুল্লাহ গত ৩০শে মার্চ অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। তার অস্ট্রেলিয়া সফরের উদ্দেশ্য ছিল কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ও বক্তব্য দেওয়া।

তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত চারটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছেন আহমাদুল্লাহ।

কিন্তু মি. আহমাদুল্লাহ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "গত সপ্তাহে অষ্ট্রলিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি আমি। এরপর একটি জরুরি কাজে দেশে ফিরেছি।"

ভিসা বাতিলের বিষয়টি বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করে মি. আহমাদুল্লাহ জানিয়েছেন, আজ ছয়ই এপ্রিল, সোমবার সকালে অস্ট্রেলিয়ার "ভিসা বাতিল হয়েছে মর্মে" একটা মেইল পেয়েছেন

এর কয়েকদিন আগেই এপ্রিল মাসের শুরুতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আরেকজন ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া।

ভিসা বাতিলের কারণ

কী কারণে বাতিল হয়েছে? শায়খ আহমাদুল্লাহকে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন।

সেই আইনজীবীর কাছে শায়খ আব্দুল্লাহ'র ভিসা বাতিল সংক্রান্ত মেইল আসে এবং ওই আইনজীবী তাকে মেইলটি ফরোয়ার্ড করেছেন।

আর্টমিস ২ এর নভোচারীরা

'কোনো মানুষ কখনো দেখেনি' এমন দৃশ্য দেখার কথা জানালেন আর্টেমিস ২ এর নভোচারীরা

এসআইআর বিরোধী বিক্ষোভে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ রাস্তায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। একজন বিক্ষোভকারীর হাতে ব্যানারে লেখা, “ভারতের নাগরিকদের বেনাগরিক করা চলবে না।” 

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা বাদ পড়া ৯০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার এখন অনিশ্চিত

যেখানে লেখা ছিল, 'ভিসাধারী ব্যক্তিকে যে উদ্দেশ্যে টেম্পোরারি অ্যাক্টিভিটি (সাবক্লাস ৪০৮) ভিসা দেওয়া হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্যেই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ করেছেন। ধারণা করা যায়, ভিসাধারী মূল বক্তা হিসেবে নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিয়েছেন এবং যেহেতু তিনি এখন অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছেন, তাই তার এখন আর ভিসার প্রয়োজনীয়তা নেই।'

পুরো ইমেইলটি বিবিসি বাংলা দেখতে পারেনি।

মি. আহমাদুল্লাহ বিবিসি বাংলাকে বলেন, তার ভিসা বাতিল সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে "বিভিন্ন মিডিয়ায় যেভাবে প্রচার হয়েছে, সেরকম সুনির্দিষ্ট কোন কারণ সেই লেটারে দেখতে পাইনি আমি।"

সিডনিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ' শায়খ আহমাদুল্লাহ'র অস্ট্রেলিয়া সফর ও ভিসা বাতিল নিয়ে সম্প্রতি দু'টো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

উভয় প্রতিবেদনেই তাকে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদানকারী ইসলামি প্রচারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার আগের কিছু ভিডিও বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। সেখানে শায়খ আহমাদুল্লাহ ইহুদিদের বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার নেপথ্যের কারিগর বলে মন্তব্য করেছেন এবং তাদের "নিকৃষ্ট" বলেও অভিহিত করেছেন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিসা জটিলতায় ও বিতর্কের মুখে আগে থেকে নির্ধারিত কয়েকটি অনুুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করেই তিনি অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছেন।

অভিযোগ নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ'র বক্তব্য

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, তিনি ইহুদীবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন, এমন কিছু তার মেইলে আসেনি।

"তবে অষ্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিক সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখেছি। সম্প্রতি কিছু ইসলাম বিদ্বেষী আমাদের কিছু বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ এবং কিছু বক্তব্যের বিকৃত অনুবাদ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করেছে। তার দ্বারা তারা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন," যোগ করেন এই ইসলামি বক্তা।

এরপর তিনি এও বলেন, "আমি মনে করি, যেকোনো অভিযোগ আমলে নেওয়ার পূর্বে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই এবং ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।"

আত্মপক্ষ সমর্থন করে এই বক্তা বিবিসি বাংলাকে আরও বলেন, "ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের গণহত্যার বিষয়ে আমরা বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছি। কুরআনেও বনী ইসরাইল প্রসঙ্গে অনেক আলোচনা আছে। সেসব বক্তব্যের কোন কিছুকে তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করে থাকতে পারে। তবে নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ফিলিস্তিনের গণহত্যার বিরুদ্ধে খোদ ইসরাইলেও অনেক মানুষ রাস্তায় নেমেছে। তারা নিজেরাও ইয়াহুদি।"

"কোনো ধর্ম, জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ নেই। বরং, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি যেকোনো বিচ্ছিন্ন অন্যায় আচরণেরও আমরা বিরোধিতা করি," তিনি বলেন।

এর আগে আজহারীর ভিসা বাতিল

এর মাত্র কয়েকদিন আগেই ভিসা বাতিল করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া সফররত বাংলাদেশি ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর। তার বিরুদ্ধে হিটলারের প্রশংসা ও ইহুদি বিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ভিসা বাতিলের বিষয়টি বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন মি. রহমান।

শায়খ আহমাদুল্লাহ'র দু'দিন আগে গত ২৮শে মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান তিনি।

তার এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন কমিউনিটি আয়োজিত ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং বক্তব্য দেওয়া। সফরের প্রথম কয়েকদিন তিনি অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করলেও কোনো আনুষ্ঠানিক জনসভায় বক্তব্য দেননি।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, তার প্রথম ইভেন্ট হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পরবর্তীতে পুনঃনির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ, সফরের শুরু থেকেই তিনি কার্যত কোনো পাবলিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি।

তবে এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এবং প্রশাসনিকভাবে তার ভিসা বাতিল করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ান সিনেটর জনাথন ডুনিয়াম তাদের দেশটির পার্লামেন্টে বিষয়টি উত্থাপন করেন। সেখানে মি. ডুনিয়াম বলেন, কমিউনিটি গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে আজহারীর উপস্থিতি সম্পর্কে আগেই সিনেটরদের সতর্ক করা হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে আনা অভিযোগের জবাবে মিজানুর রহমান আজহারী দাবি করেন, পুরো ঘটনাটি একটি বহু বছর আগের বক্তব্যের খণ্ডিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "যে ভিডিওটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি প্রায় ১৩ বছরের পুরোনো। তখন আমার বয়সও অনেক কম ছিল।"

তার ভাষ্যমতে, ওই ভিডিওটি মূল বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রকৃত অর্থ বিকৃত করেছে।

তিনি আরও জানান, এই একই ভিডিওর সূত্র ধরে অতীতে যুক্তরাজ্যেও তার প্রবেশে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়; বরং পুরোনো একটি বিতর্কের পুনরাবৃত্তি।