News update
  • 8 workers burnt in N’gan Akij Cement factory boiler blast     |     
  • Ex-Shibir activist shot dead in Fatikchhari     |     
  • Class X student brutally murdered in capital’s Banasree     |     
  • 'Bodycams' to be used at risky polling centres: IGP Baharul      |     
  • 7,359 people killed in road accidents in 2025: Road Safety Foundation     |     

গ্রিনল্যান্ডে পা দিলে ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’, ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক কুটনীতি 2026-01-09, 2:09pm

img_20260109_140725-7e95f763bee8c1e952acab68d9134e2d1767946167.jpg




ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই চরম আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর দেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি, যার মধ্যে আছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের অধীনস্ত গ্রিনল্যান্ডও। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ভূখণ্ডটি দখলের জন্য ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে রীতিমতো চোখ রাঙাচ্ছেন ট্রাম্প। 

এবার বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পকে কড়া এক বার্তা দিয়েছে ডেনমার্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, গ্রিনল্যান্ডে যদি কোনো বিদেশি বাহিনী অনুপ্রবেশ করে, তবে ডেনিশ সেনারা ‘আগে গুলি চালাবে, পরে প্রশ্ন করবে’। এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রও ব্যতিক্রম নয়।

ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ১৯৫২ সাল থেকে কার্যকর সেনাবাহিনীর ‘রুল অব এনগেজমেন্ট’ অনুযায়ী, আক্রমণের ক্ষেত্রে সেনাদের ওপর থেকে উচ্চপর্যায়ের অনুমতির অপেক্ষা না করে সরাসরি হামলা চালানোর নির্দেশনা রয়েছে। ডেনিশ দৈনিক বার্লিংস্কে এই নির্দেশনার বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে যে, নিয়মটি এখনো বহাল আছে।

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রকাশ করেছেন। ন্যাটোভুক্ত এই ভূখণ্ডটি দখলে নিতে প্রয়োজনে ‘সামরিক শক্তি ব্যবহারের’ কথাও বিবেচনায় রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহুবার স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার একটি অগ্রাধিকার। আর্কটিক অঞ্চলে আমাদের প্রতিপক্ষদের প্রতিরোধ করাই এর মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করাও কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারভুক্ত একটি বিকল্প।’

তবে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে তিনি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান, সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথে যেতে চান না। এ বিষয়ে ডেনমার্কও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এটিকে ‘প্রয়োজনীয় সংলাপ’ বলে উল্লেখ করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্প ‘যতদূর প্রয়োজন, ততদূর যেতে প্রস্তুত’।

ডেনমার্ক অবশ্য বারবার বলে আসছে, গ্রিনল্যান্ড ‘বিক্রির জন্য নয়’। ইউরোপীয় নেতারাও সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের ভৌগোলিক অখণ্ডতা অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন আরও এক ধাপ এগিয়ে সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক হামলা হলে তা ন্যাটো জোটের অবসান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভাঙনের শামিল হবে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের যুক্তি হলো, আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।