News update
  • Biman suspends Tuesday’s Dhaka-Dammam flight     |     
  • First Phase of Union Parishad Polls Set for January 21     |     
  • PM Seeks Canadian Support for Energy, Agriculture, Climate Finance     |     
  • Saudi-led coalition intercepts drone, Houthi ballistic missile     |     
  • Houthi Attack in Riyadh Puts Bangladeshis at Risk     |     

অর্থনীতির উত্থান-পতন সামলানোর পথ দেখিয়ে নোবেল পেলেন হল-উডফোর্ড

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক অর্থনীতি 2026-10-12, 6:35pm

nobel-85ba2de9424a2c19dabf6be1218d6ec21791808552.jpg




অর্থনীতির উত্থান-পতন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি প্রণয়নের পথ দেখিয়ে চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। তাদের উদ্ভাবিত নতুন সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাদের নাম ঘোষণা করে রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস।

অর্থনীতিতে কখনও মন্দা দেখা দেয়, আবার কখনও দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটে। প্রায় এক শতাব্দী আগে অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনসের তত্ত্বের পর থেকে এসব ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে স্থিতিশীলতামূলক নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অর্থনৈতিক মন্দার সময় সুদের হার কমানো ও সরকারি বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর মাধ্যমে চাহিদা বাড়ানো হয়। বিপরীতে, অর্থনীতি অতিরিক্ত চাঙা হয়ে উঠলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো ও সরকারি ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

তবে ১৯৭০-এর দশকে তেলসংকটের সময় কেইনসীয় অর্থনৈতিক মডেলগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব নীতি বেকারত্ব কমাতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয় বলে সমালোচনা করা হয়। ওই দশকে পশ্চিমা দেশগুলো নিম্ন প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বেকারত্ব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখে পড়ে। ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচলিত নীতিগুলো কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থিতিশীলতামূলক নীতিকে কার্যকর করার পথ দেখান। মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ও ভোগের মতো অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যকার পরিসংখ্যানগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর না করে তারা মডেলগুলোকে ক্ষুদ্র অর্থনীতির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন। এতে ব্যক্তি, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত কীভাবে সামগ্রিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, তা বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়।

এই মডেলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সঞ্চয়, ব্যয় ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের অর্থনৈতিক নীতির পরিকল্পনা ও ঘোষণা দিয়ে মানুষের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব হয়।

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলারের মতে, হল ও উডফোর্ডের কাজ বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারগুলোর ব্যবহৃত অর্থনৈতিক মডেলগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানিসংকট কিংবা পরিবারের ভোগব্যয়ে আকস্মিক পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় এসব মডেল নীতিনির্ধারকদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।