News update
  • Human Rights Record ‘Alarming’ Over 17 Months, Says HRSS     |     
  • Tarique Warns of Deep Plot, Urges Vigilance Nationwide     |     
  • Son of late ruler Gadhafi is killed in Libya      |     
  • Special prayers, foods, charity mark Shab-e-Barat in Old Dhaka     |     
  • Exiled Awami League Leaders Plan Political Comeback from India     |     

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ

জেলেদের মাছ ধরা বন্ধের উপক্রম

Fishery 2026-02-03, 11:20pm

dead-jelly-fishes-spot-the-kuakata-beach-53159495866eeaa7720a8f683d9ea7021770139239.jpg

Dead Jelly Fishes spot the Kuakata Beach.



পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অস্বাভাবিক ভাবে ভেসে আসছে হাজার হাজার মৃত জেলিফিশ। গত কয়েকদিন ধরে সৈকতের লেম্বুরবন, মাঝিবাড়ি, গঙ্গামতি ও ঝাউবাগানসহ বিভিন্ন পয়েন্টের সৈকতে আটকে থাকতে দেখা যাচ্ছে স্বচ্ছ মৃত জেলিফিশ। কখনো জোয়ারের পানিতে ভেসে আসছে, আবার কখনো বালিতে আটকে নিথর হয়ে পড়ছে এগুলো। সৈকতের এমন চিত্রের চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা গভীর সমুদ্রে।

জেলেদের ভাষ্য, মাছ ধরার জালে হাজার হাজার জেলিফিশ আটকে পড়ায় জাল নষ্ট হচ্ছে এবং মাছ ধরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন অনেক জেলে। এতে দিন কাটছে চরম লোকসান ও অনিশ্চয়তার মধ্যে।

হোসেন পাড়ার জেলে মো. মাহাতাব আকন বলেন, প্রতিদিন সাগরে গেলে জালে মাছের চেয়ে জেলিফিশই বেশি উঠছে। জাল পরিষ্কার করতেই সময় চলে যায়, মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। সংসার চালানো নিয়ে খুব দু:শ্চিন্তায় আছি।

ঝাউবন এলাকার জেলে মো. শামিম হোসেন জানান, প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিলে কিছু জেলিফিশ আসে, কিন্তু এবার দুই সপ্তাহ আগেই সাগর ভরে গেছে। এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। এখন সাগরে গেলে শুধু ক্ষতিই হচ্ছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জেলিফিশের দেখা মিললেও এবছর আগেভাগেই এর ব্যাপকতা বেড়েছে। এতে উপকূলের কয়েক হাজার জেলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গবেষকদের মতে, জেলিফিশ সমুদ্রের একটি প্রাকৃতিক প্রাণী এবং সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জেলিফিশ মূলত অতিক্ষুদ্র প্ল্যাংকটন খেয়ে বেঁচে থাকে এবং নিজে আবার কচ্ছপ, কিছু মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রধান খাবারের একটি হলো জেলিফিশ। তবে সাগরে কচ্ছপসহ জেলিফিশভোজী প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় জেলিফিশের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। পাশাপাশি সাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং দূষণ জেলিফিশের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে সহায়তা করছে। 

গবেষকরা বলছেন, জেলিফিশের আধিক্য অনেক সময় সমুদ্রের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার একটি সতর্ক সংকেত হিসেবেও ধরা হয়।

বিষয়টি নজরে এসেছে সমুদ্র অর্থনীতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোফিশ-এর। প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী গবেষক মো. বখতিয়ার হোসেন জানান, তারা মৃত জেলিফিশের নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, জেলিফিশের আক্রমণের পাশাপাশি বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈরী আবহাওয়া এবং বছরে দুই দফা মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার কারণে উপকূলীয় জেলেরা এমনিতেই চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এর ফলে তাদের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।

বর্তমান এই কঠিন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় জেলেরা সরকারের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর নজরদারি ও সহায়তা বাড়ানোর জোর দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি বারবার অনুরোধ জানিয়ে আসছি—গবেষকদের সম্পৃক্ত করে জেলিফিশসহ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে গভীর গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে জেলেদের কীভাবে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। 

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, প্রতিবছরই নির্দিষ্ট সময়ে জেলিফিশ তীরে আসে। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই এই সমস্যা প্রাকৃতিকভাবে কমে যায়। - গোফরান পলাশ