
শুটিংয়ের ফাঁকে অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত সময়ের ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী রেশমা আহমেদ। তাঁর দাবি, শুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি শিল্পীদের কথাবার্তা, হাসি-আনন্দের মুহূর্ত আড়ালে ধারণ করে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে সহশিল্পীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন রেশমা। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা শুটিংয়ের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
পোস্টে রেশমা জানান, চরিত্রাভিনেতাদের, বিশেষ করে মা-বাবার চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের একটি শুটিংয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২টি দৃশ্যে কাজ করতে হয়। প্রতিটি দৃশ্যের মাঝে অল্প সময়ের বিরতি পান তাঁরা। এই সময়টুকুতে চা পান, গল্পগুজব কিংবা সহশিল্পীদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে কাটে তাঁদের সময়। ব্যক্তিগত জীবন, সংসার ও সন্তানদের নিয়েও কথা বলেন অনেকে।
রেশমা লেখেন, ‘প্রতি সিকোয়েন্সের মাঝখানে হয়তো ১০ মিনিট ব্রেক দেওয়া হয়। তখন আমরা চা খাই, গল্প করি, একটু ফান করার চেষ্টা করি। হাসাহাসি করি। সুখ-দুঃখের কথা বলি। ব্যক্তিগত জীবন, সংসার, সন্তানদের নিয়ে কথা বলি। আর এই ১০ মিনিটের মধ্যেই আমরা পরবর্তী সিকোয়েন্সের জন্য এনার্জি নিয়ে তৈরি হই।’
অভিনেত্রীর অভিযোগ, এই বিরতির সময়ও গোপনে ভিডিও ধারণ করছেন শুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে লাইট ও ক্যামেরা সহকারী, মেকআপ সহকারী এমনকি শুটিং দেখতে আসা অতিথিদের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। পরে এসব ভিডিও দিয়ে রিলস তৈরি করে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে কেউ কেউ অর্থও আয় করছেন বলে অভিযোগ রেশমার।
তিনি লেখেন, ‘লাইট এবং ক্যামেরার অ্যাসিস্ট্যান্ট, মেকআপ অ্যাসিস্ট্যান্ট, শুটিংয়ের কোনো গেস্ট, অর্থাৎ আমাদের শুটিংয়ের লোকজন আমাদের সেই ব্যক্তিগত বিশ্রামের সময় ভিডিও ধারণ করে লুকিয়ে লুকিয়ে। এবং রিলস বানিয়ে নিয়ে নিজের আইডি থেকে আপলোড দেয়। টাকা ইনকাম করে।’
রেশমার ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও অনেক অভিনয়শিল্পী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু বারবার অভিযোগ উঠলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে শুটিং সেটে নিজেদের ব্যক্তিগত সময়ের গোপনীয়তা রক্ষায় অভিনয়শিল্পীদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রেশমা আহমেদ।