
পর্দায় একটি চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিনয়শিল্পীকে কখনো কখনো নিজের পরিচয়ের সীমানাও ছাপিয়ে যেতে হয়। কিন্তু সেই অভিনয় করা চরিত্রই যখন বাস্তব জীবনে হয়রানি ও কুপ্রস্তাবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন অভিজ্ঞতাটি হয়ে ওঠে ভয়ংকর। এমনই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন ‘মির্জাপুর’ খ্যাত বাঙালি অভিনেত্রী অনংশা বিশ্বাস।
জনপ্রিয় ভারতীয় ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এর প্রথম সিজনে ‘জরিনা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন অনংশা। তবে চরিত্রটির জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে তাঁকে শুনতে হয়েছে নানা কুরুচিকর মন্তব্য।
সম্প্রতি দেশটির জনপ্রিয় ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউব চ্যানেল ‘হিন্দি রাশ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেত্রী।
সিরিজে তিনি একটি গ্রে-শেডের ‘জরিনা’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। নিজের স্বার্থ হাসিল করতে শারীরিক আকর্ষণকে রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যায় তাকে। আর এই চরিত্র দেখেই অনেক দর্শক পর্দার চরিত্র ও অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবনের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হন বলে জানান অনংশা।
অনংশা জানান, প্রথম সিজনের পর তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইমেইলে একের পর এক আপত্তিকর মেসেজ আসতে শুরু করে।
অনংশার কথায়, ‘আমাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হত- একরাতের জন্য তোমার রেট কত? দু'দিনের জন্য আমাদের সঙ্গে মরিশাস যাবে?- এই ধরনের নোংরা মেসেজে আমার ইনবক্স ভরে উঠেছিল।’
কাজের প্রতি ১০০% নিষ্ঠা দেওয়ার পর এই ধরনের মন্তব্যে হতবাক হয়ে যান অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, একজন শিল্পী পর্দায় কী চরিত্র করছেন তার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিজীবনকে মেলানো বন্ধ করা উচিত দর্শকদের।
সিরিজের এই বিপুল জনপ্রিয়তার পর এবার বড় পর্দায় আসতে চলেছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। অনংশা আবারও তাঁর ‘জরিনা’ চরিত্রে ফিরছেন। সিনেমা মুক্তির আগে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তিনি।
সিনেমাটিতে কালীন ভাইয়া (পঙ্কজ ত্রিপাঠী), গুড্ডু পণ্ডিত (আলী ফজল), মুন্না ভাইয়া (দিব্যেন্দু) এবং রসিকা দুগল তাঁদের নিজ নিজ চরিত্রে ফিরছেন।
সিনেমার ট্রেলার লঞ্চে সহ-প্রযোজক ফারহান আখতার জানান, বিশ্বজুড়ে অনুরাগীদের অনবরত দাবির কারণেই ওয়েব সিরিজটিকে বড় পর্দার সিনেমায় রূপ দেওয়া হয়েছে।