News update
  • Uncertainty over possible US-Iran talks as Trump extends ceasefire     |     
  • Bangladesh eyes broader bilateral engagements with African nations     |     
  • Trump Extends Iran Ceasefire, Seeks Time for Talks     |     
  • SSC and Equivalent Exams Begin Nationwide     |     
  • US, Iran Signal War Readiness as Talks Hang in Balance     |     

জে: মামুন খালেদের নির্বাচনী জরিপ হলো গণতন্ত্রের কফিনে পেরেক

রাজনীতি 2026-04-02, 8:34pm

658947825_26829222443341851_2571797921371025336_n-66a590f6b63db640d33e61a086c1557c1775140486.jpg

Let General Mamun Khaled



লে: জেনারেল মামুন খালেদ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের ডিজি হিসেবে নিজের পদায়নের মেয়াদ বৃদ্ধির মানসে আওয়ামী লীগের পুন: র্নিবাচন নিশ্চিত করার নিমিত্তে সারা দেশে নির্বাচনী জরিপ চালান। কাজের পরিধি অতিক্রম করে তিনি এ কাজটি করেন ২০১১ সালে, সে মেয়াদে আলীগের তিন বছর পূর্তির প্রাক্কালে। জরিপের ফলাফলে ক্ষমতাসীন দলের জন্য ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশ থেকে ডিজিএফআই প্রতিনিধিরা একে একে ঢাকায় এসে জরিপের ফলাফল উপস্থাপনের পর দেখা যায় ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে ৩০ ভাগ সীটও পাবেনা। বিএনপি এবং তার মিত্ররা পাবে ষাট ভাগ।লে জেনারেল মামুন খালেদ বিষয়টি প্রধান মন্ত্রীর গোচরে আনার জন্য প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত তার সম্মুখে উপস্থাপন করেন। ইতিপূর্বেও ডিজিএফআই রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন কাজ করেছে। কিন্ত ক্ষমতাসীনদের পরবর্তী নির্বাচনে জয়লাভ নিশ্চিত করার জন্য তাদের জনপ্রিয়তার উপর দেশব্যাপী জরিপ বা তার ফলাফল গোচরিভূত করে কর্মসূচি নির্ধারণে সরাসরি রাজনৈতিক সহায়তার কাজ করেনি। কারণ, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে, ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স মহাপরিচালক (ডিজিএফআই)-এর দায়িত্ব হলো কৌশলগত এবং শীর্ষ-পর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সংকলন এবং মূল্যায়ন করা, যা প্রধানত জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিদেশী সামরিক ও অসামরিক হুমকি সম্পর্কিত।সূত্র মতে, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের জনপ্রিয়তার এ দৈনদশার কথা জানতে  পেরে তা এনএসআই, এসবি ও ডিএসবির মাধ্যমে পূনযাচাই করে একই ফলাফল পান। শুরু হয় গদি রক্ষার জন্য বিস্তারিত সংবিধান বিধ্বংসী কার্যকলাপ। যার প্রথম শিকার হয় জনপ্রিয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠান। যার অধীনে ১৯৯১ সাল থেকে নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। পরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে বাইরে রেখে সংসদ নির্বাচনের  নীল নকশা আঁকা হয়। যার ফল শ্রুতিতে গণতন্ত্র প্রিয় এদেশের মানুষকে ২০১৪ সালে দেখতে হল বিনা প্রতিযোগিতার সংসদ নির্বাচন (১৫৪ আসনে)। এবং বাদবাকি ১৪৬ আসনে ভোটার বিহীন নির্বাচন।ঐ সময় ব্যাংক ও শেয়ার বাজার লুট ও হেফাজতের সমাবেশে গণহত্যা ১৯৭২-৭৩ সালে নিষ্পত্তিকৃত তখনকার স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার পুনরুজজিবিত করে জামাতের শীর্ষ নেতাদের এবং কিছু বিএনপি নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলানো, সভা সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সহ মানবাধিকার লংঘন, গুম-খুন ও রাহাজানির জন্য আলীগ সরকারের জনপ্রিয়তা প্রায় শূন্যের কোথায় নেমে এসেছিল। জনমতের বিপরীতে ক্ষমতায় আকড়ে থাকার জন্য তারা একের পর এক জনবিরোধী কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। লে জেনারেল মামুন খালেদের  মত বেশ কিছু ক্ষমতা ও সম্পদ লোভি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা ব্যাক্তি স্বার্থে সর্বাত্মক সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। তাদের কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধংস হয়। দেশ দূর্নীতি ও টাকা পাচারের ও জুলুম নির্যাতনের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়।অথচ বেসামরিক সামরিক সকল প্রতিষ্ঠানের আইনানুগ সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিধি ছিল যা তারা তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের সাথে লংঘন করে। আনুষ্ঠানিক ম্যান্ডেট এবং ক্রমবিকাশমান কর্মপরিধি অনুসারে, ডিজিএফআই-এর মূল দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে:১) দেশী সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ: এর প্রধান ভূমিকা হলো অন্যান্য দেশের সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কিত কৌশলগত এবং স্থানিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, বিশেষত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিগুলোর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।২) জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত মূল্যায়ন: জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক ঘটনাবলী এবং অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা এবং সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডকে অবহিত করা।৩) প্রতি-গোয়েন্দা কার্যক্রম: বিদেশী সংস্থা (আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে) কর্তৃক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত গোয়েন্দা অভিযান শনাক্ত করা এবং প্রতিহত করা।৪) সন্ত্রাসবাদ দমন (অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক): এর এলিট ইউনিট, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি)-এর মাধ্যমে, ডিজিএফআই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার দায়িত্বে নিয়োজিত।৫) সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা: অভিযান পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীকে সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করা।৬) আন্ত-সংস্থা সমন্বয়: গোয়েন্দা ও রাষ্ট্রবিরোধী তথ্য সংগ্রহের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর মতো অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাথে কাজ করা।৭) সাইবার গোয়েন্দা ও নজরদারি: জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করা।৮) সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা: সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।সংস্থাটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয় এবং এর মহাপরিচালক সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করেন।একটু নজর দিলেই বোঝা যায় এই সংস্থা তার নিজের দায়িত্ব পালনে দায়সারা কাজ করে কতদূর কর্মপরিধির বাইরে চলে এসেছিল। যার খেসারত দেয় দেশ ও জাতি।