
বয়স মাত্র ৩১ বছর। এরই মধ্যে হার্ভার্ড, ইয়েল, অক্সফোর্ড, স্ট্যানফোর্ডসহ বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১২টি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তা জেমি বিটন। তবে এতগুলো ডিগ্রি অর্জনের পরও থামছেন না তিনি। বর্তমানে আরও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পথে রয়েছেন।
জেমি অকল্যান্ডে বেড়ে উঠেছেন। তার অসাধারণ শিক্ষাজীবনের খবর সামনে আসে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষকের মাধ্যমে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে জেমি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিতে অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষক লিসা বেলকিন তাঁর খোঁজ নেন।
জেমি জানান, তিনি ভুল করে শ্রেণির সময়সূচি গুলিয়ে ফেলেছিলেন। তখন তিনি নিউজিল্যান্ডে ছিলেন এবং অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যোক্তা বিষয়ে একটি কোর্স পড়াচ্ছিলেন। পরের সপ্তাহেই নিউইয়র্কে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার।
জেমির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে ওই শিক্ষক জানতে পারেন তার বিস্ময়কর শিক্ষাজীবনের কথা। ২০১৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক শেষ করেন জেমি। একই সময়ে প্রয়োগিক গণিত ও অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন তিনি।
এরপর স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। পরে রোডস বৃত্তি নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জননীতি বিষয়ে পিএইচডি করেন। এসব ডিগ্রির বেশির ভাগই ২৮ বছর বয়সের আগেই অর্জন করেন তিনি।
এরপরও পড়াশোনা থামেনি। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, তিসিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কিংস কলেজ লন্ডন, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, ডার্টমাউথ কলেজ ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি নামী প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন তিনি।
জেমির শিক্ষাজীবনের বিষয়ও বেশ বৈচিত্র্যময়। গণিত, অর্থনীতি, ব্যবসা, আইন, জননীতি, অর্থব্যবস্থা, শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, স্বাস্থ্যনীতি ও সাংবাদিকতার মতো বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি।
সম্প্রতি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করেছেন জেমি। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল নিউজিল্যান্ডের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স, নিউ জিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি এবং দেশটির রাজনীতিতে জনতাবাদী জাতীয়তাবাদের ভবিষ্যৎ।
বর্তমানে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে আরও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি করছেন তিনি। ভারত সফরের সময়ও এই পড়াশোনার সেমিস্টার শেষের একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিলেন জেমি।
এতগুলো ডিগ্রি অর্জনের কারণে প্রশ্ন উঠেছে, জেমি কি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তি হওয়ার পথে এগোচ্ছেন?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্জামিন বোলগার ৫০ বছর বয়সে ১৬টি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আর মাইকেল নিকোলসনের ডিগ্রির সংখ্যা ৩০টির বেশি। ফলে জেমির সামনে আরও অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে পড়াশোনাই জেমির একমাত্র কাজ নয়। কিশোর বয়সেই তিনি শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিমসন এডুকেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের বাছাই করা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি ও আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
জেমির পেশাগত পরিচিতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাজীবন নিয়ে নানা রসিকতা ও আলোচনা রয়েছে। এমনকি তাঁকে ‘লিংকডইনের থ্যানোস’ নামেও ডাকা হয়।
তবে জেমি জানিয়েছেন, শুধু নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিজের জীবনবৃত্তান্তে যোগ করার জন্য তিনি এতগুলো ডিগ্রি নিচ্ছেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম পাঁচটি ডিগ্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জনই ছিল মূল লক্ষ্য। এরপর থেকে নিজের বিভিন্ন আগ্রহ ও কৌতূহল অনুসরণ করেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক্রিমসন এডুকেশনের চেয়ারম্যান ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার জন কি জেমির শিক্ষাজীবন নিয়ে রসিকতা করে তাঁকে দেশটির বিখ্যাত বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের পরেই স্থান দেওয়ার কথা বলেছেন। অবশ্য তিনি এটিও বলেন, পরমাণু বিভাজনের সঙ্গে যুক্ত রাদারফোর্ডকে এই তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া কঠিন।
জেমির ক্ষেত্রে কোনো ডিগ্রিই যেন শেষ নয়। একটি পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে আরেকটি। ফলে ভবিষ্যতে তিনি আরও কতগুলো ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তিদের তালিকায় কোথায় পৌঁছান, তা নিয়েই এখন কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস