
নিরবচ্ছিন্ন ও টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর (যশোর-৬) এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনেরও লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠা-নামা করে। বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, ‘গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ এক নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। ওইদিন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।’
সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সেবার মান ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে সরকার একই সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বিদ্যুতের অপচয় ও অবৈধ ব্যবহার রোধে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্রের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নতুন বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস কমানোর জন্যও বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
যশোর-৬ আসনের কেশবপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কেশবপুর জোনাল অফিসের আওতাধীন এ এলাকায় মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ২২ মেগাওয়াট। বর্তমানে সেখানে ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও জানান, নওয়াপাড়া গ্রিড এবং যশোর গ্রিড থেকে কেশবপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।