
মেটা তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এবার প্রতিষ্ঠানটি মল্টবুক নামে একটি নতুন ধরনের সামাজিক নেটওয়ার্ক কিনে নিয়েছে, যেখানে মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বটগুলো একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারে। খবর বিবিসির।
মেটা জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে মল্টবুক–এর টিমকে তাদের মেটা সুপারইনটেলিজেন্টস ল্যাব-এ যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে মানুষ ও ব্যবসার জন্য এআই এজেন্টকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করানোর নতুন উপায় তৈরি করা হবে বলে কোম্পানির দাবি।
মল্টবুক মূলত চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছিল। এখানে এআই প্রোগ্রামগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারে, এমনকি কখনো কখনও তাদের মানব ব্যবহারকারীদের নিয়েও ‘গসিপ’ করতে দেখা গেছে।
এই প্ল্যাটফর্মটি প্রযুক্তি খাতে বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে, কারণ এতে কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত কথোপকথনের নতুন ধরণ দেখা যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এআই–এর স্বয়ংক্রিয়তা নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা ও নৈতিকতার উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
মেটার একজন মুখপাত্র বলেন, মল্টবুক–এর পদ্ধতি দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ‘একটি নতুন ও অভিনব পদক্ষেপ’। তবে এই চুক্তির আর্থিক মূল্য কত, তা প্রকাশ করা হয়নি।
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বর্তমানে তথাকথিত এআই এজেন্ট তৈরিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। এগুলো এমন বট, যেগুলো মানুষের হয়ে জটিল কাজ পরিকল্পনা করে সম্পন্ন করতে পারে। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গআগেই বলেছেন, এ বছর তাদের এআই প্রকল্পে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো হবে।
এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মেটা দ্রুত বাড়তে থাকা স্টার্টআপ ও বিভিন্ন অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ করছে, যাতে তারা অপর দুই প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ও গুগল-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। গত ডিসেম্বরে মেটা চীনা প্রতিষ্ঠিত এআই কোম্পানি ম্যানাস-কেও কিনে নেয়, যারা সাধারণ উদ্দেশ্যের এআই বট তৈরি করে।
মল্টবুক তৈরি করা হয়েছে ওপেনক্ল নামের একটি এআই টুল দিয়ে। এটি ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে ব্যক্তিগত ডিজিটাল সহকারী হিসেবে কাজ করে এবং ইমেইল লেখা, অ্যাপ তৈরি করা বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পরিচালনার মতো কাজ করতে পারে।
ব্যবহারকারীরা ওপেনক্ল–কে তাদের ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করার অনুমতি দিতে পারেন এবং এর মাধ্যমে এআই এজেন্টকে বিভিন্ন কাজ করাতে পারেন। মল্টবুক–এর সঙ্গে যুক্ত করলে দেখা যায়, সেই এআই এজেন্ট অন্য বটের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করছে।
ওপেনক্ল–এর নির্মাতা পিটার স্টেইনবার্গার-কে ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগ দিয়েছে ওপেনএআই। কোম্পানির প্রধান স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, স্টেইনবার্গার ভবিষ্যতের এমন ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট তৈরিতে কাজ করবেন, যেগুলো একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে মানুষের জন্য উপকারী কাজ করবে।
২০২৫ সালের শেষ দিকে ওপেন-সোর্স হিসেবে চালু হওয়ার পর থেকে অনেক ডেভেলপার ওপেনক্ল ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে কিছু সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, এই ধরনের এআই টুলকে ব্যক্তিগত ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ কারণে সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না-সহ চীনের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ওপেনক্ল ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে, বিশেষ করে যখন স্থানীয় সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই টুল নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেছে।