
২০১০–এ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ ছিল মেক্সিকো। ১৬ বছর পরের বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক হয়েছে মেক্সিকো, যেখানে আজ (১১ জুন) আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ সেই দক্ষিণ আফ্রিকা। তাই চাইলেই আজকের ম্যাচটাকে সেদিনের রি-ম্যাচ বলাই যায়। জোহানেসবার্গে সেদিন ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হলেও মেক্সিকো চাইবে এবার জয় দিয়ে আসর শুরু করতে।
রাতে মেক্সিকো সিটির ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও অ্যাজটেকায় স্বাগতিক মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। উদ্বোধনী ম্যাচে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফলে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে এক অসাধারণ ফুটবল উৎসব।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের উদ্বোধন:
মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত বৃহস্পতিবারের (১১ জুন) ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ৩৯ দিনের দীর্ঘ এই টুর্নামেন্ট। এতে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ৪০টি বেশি। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। একই সঙ্গে এটি প্রথম বিশ্বকাপ, যা একসঙ্গে তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র,মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কিক-অফের ঠিক ৯০ মিনিট আগে অনুষ্ঠিত হবে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এর প্রধান আকর্ষণ থাকবেন চারবারের গ্র্যামি বিজয়ী তারকা শাকিরা। এছাড়া কলম্বিয়ান গায়ক জে বালভিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা-গীতিকার তাইলাও পরিবেশনায় অংশ নেবেন।
ঘরের মাঠে জয়ের চাপ মেক্সিকোর:
ফুটবলপ্রেমী দেশ মেক্সিকোর জন্য বিশ্বকাপ নতুন কিছু নয়। বিশ্বকাপের মূল পর্বে ‘এল ত্রি’ ১৭তম বারের মতো অংশ নিচ্ছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করাটাই বড় গর্বের বিষয়। তার ওপর আরও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। এস্তাদিও অ্যাজটেকা বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের কীর্তি গড়বে (১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬)।
ঘরের মাঠের সুবিধা এবং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে এই ম্যাচে মেক্সিকোকেই ফেবারিট ধরা হচ্ছে। তবে ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের প্রত্যাশা পূরণের চাপও তাদের ওপর থাকবে। সমর্থকেরা উদ্বোধনী ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছেন না।
মেক্সিকো বর্তমানে টানা আট ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে। এটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আগে তাদের দীর্ঘতম অপরাজিত ধারাগুলোর একটি। ফলে কোচ হাভিয়ের আগুইরে এবং তার দলের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে বিশ্বকাপ শুরুর আগে।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই:
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬০তম স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা কাগজে-কলমে ১৪তম স্থানে থাকা মেক্সিকোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে। তবে ‘বাফানা বাফানা’র কোচ হুগো ব্রুস বিশ্বাস করেন, তার দল চমক দেখানোর সামর্থ্য রাখে। মেক্সিকোর মতো নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলতে না পারলেও দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে। এটি তাদের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ।
উদ্বোধনী ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমকে ব্রুস বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি হবে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা যেন নিজেদের ম্যাচ পরিকল্পনা মেনে চলি এবং গ্যালারিতে কী ঘটছে, সেদিকে মনোযোগ না দিই।’
ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তুতিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। সফরকারী দলের কয়েকজন সদস্য দেরিতে মেক্সিকোতে পৌঁছান, ফলে মধ্য মেক্সিকোর পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য মূল্যবান সময় হারাতে হয়েছে।
তবে কঠিন বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা ব্রুসের দল আবারও স্বাগতিকদের ভোগান্তিতে ফেলতে আশাবাদী।
এই গ্রুপে আরও যারা আছে:
গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার বাকি দুই প্রতিপক্ষ চেক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ কোরিয়া।
১২টি গ্রুপের প্রতিটি থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি পরবর্তী পর্বে উঠবে। পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলও নকআউট পর্বে যাবে। এর ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ৩২ দলের নকআউট রাউন্ড বা ‘রাউন্ড অব ৩২’ অনুষ্ঠিত হবে।
মাঠে নামলেও ইতিহাস গড়বেন ওচোয়া। ছবি: রয়টার্স
মুখোমুখি লড়াইয়ে যারা এগিয়ে:
উদ্বোধনী ম্যাচটি হবে দুই দলের মধ্যে মাত্র পঞ্চম সাক্ষাৎ।
এ পর্যন্ত মেক্সিকো দুইবার জিতেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা একবার জয় পেয়েছে এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে। সেদিন সিফিয়ে শাবালালার দুর্দান্ত গোলে দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে গেলেও দ্বিতিয়ার্ধে রাফায়েল মার্কুয়েজ সমতা ফেরান।
ফলে জোহানেসবার্গে ৮৪ হাজারেরও বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্রয়ে শেষ হয়েছিল।
দুই দলের ফর্ম (সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচ, সর্বশেষটি আগে):
মেক্সিকো: ৩ জয়, ২ ড্র
মেক্সিকো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আসছে টানা তিনটি প্রীতি ম্যাচে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। তারা আফ্রিকা ও এশিয়ার টুর্নামেন্ট-অংশগ্রহণকারী দল ঘানা ও অস্ট্রেলিয়া এবং সার্বিয়ার বিপক্ষে টানা তিনটি জয় পেয়েছে।
এর আগে টানা দুই ম্যাচে ড্র করেছিল এল ত্রিরা।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩ ড্র, ২ হার
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রস্তুতি পর্বে ভালো ছন্দে নেই। শেষ তিনটি প্রীতি ম্যাচেই তারা জয়হীন ছিল। এর মধ্যে জ্যামেইকা ও নিকারাগুয়ার বিপক্ষে ড্র এবং পানামার কাছে হারে তারা। ফলে ‘বাফানা বাফানা’ বিশ্বকাপের আগে কিছুটা অনিশ্চয়তা নিয়ে মাঠে নামছে।
মেক্সিকোর সম্ভাব্য শুরুর একাদশ: রাউল র্যাঙ্গেল; হেসুস গালার্দো, ইয়োহান ভাসকেস, সিজার মন্তেস, ইসরায়েল রেইয়েস; ব্রায়ান গুতিয়েরেস, এরিক লিরা, আলভারো ফিদালগো; ইউলিয়ান কুইনোনেস, রবার্তো আলভারাদো ও রাউল হিমেনেস।
দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য শুরুর একাদশ: রনওয়েন উইলিয়ামস; খুলিসো মুদাও, ইমে ওকোন, এমবেকেজেলি এমবোকাজি, অব্রি মোদিবা; তেবোহো মোকোয়েনা, স্ফেফেলো সিথোলে, থালেন্তে এমবাথা; শেপাং মোরেমি, লাইল ফস্টার ও অসউইন অ্যাপোলিস।