
A high-level consultation meeting on securing river-water rights of the people of Bangladesh was held at a local restaurant in Dhaka on Sarturday 31 October 2026.
বাংলাদেশের জনগণের নদী-পানির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাপক গণ-সম্পৃক্ততা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা, পানি বিশেষজ্ঞ ও আন্দোলন কর্মীরা। শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ সভায় তারা এ আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে তামাদি হবার আগে গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে সরকারের কেবল বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনানির্ভর উদ্যোগ সফল হবে না। তাদের মতে, পূর্ব হিমালয় থেকে নেমে আসা সব নদীর পানি বহন করে সমুদ্রে পৌঁছে দেয় ভাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ। তার পানির অধিকার নিশ্চিত করতে বহুপক্ষীয় ও অববাহিকাভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ শুষ্ক মৌসুমে হ্রাসকৃত পানিপ্রবাহ দেশব্যাপী পরিবেশগত বিপর্যয়ের সৃষ্টি করছে।
আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি) বাংলাদেশ আয়োজিত এ পরামর্শ বৈঠকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), নাগরিক ঐক্য এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
আইএফসি বাংলাদেশের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, আইএফসি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমেদ, পানি বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব এএনএইচ আখতার হোসেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব কাজী মো. নাহিদ এবং নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সারসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা-দর্শনের ভিত্তি স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে পানি বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ এবং আন্দোলনকর্মীদের আস্থায় নিতে হবে। উল্লেখ্য, পরবর্তীকালে নতজানু নীতি অনুসরণের কারণে সেই শক্তিশালী ভিত্তি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
তারা আরও বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে যে উজানে অটেকসই পানি ব্যবস্থাপনার ফলে হিমালয় থেকে নেমে আসা বিশাল নদীগুলো ক্রমশ ক্ষীণধারায় পরিণত হচ্ছে। এর ফলে নদ-নদীর প্রবাহ, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীবচক্রের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।